× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

এবার জমি না থাকায় পুলিশে যোগ দিতে পারছেন না শুভ

শেষের পাতা

রাশিম মোল্লা
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

শুভ আহমেদ। স্বপ্ন ছিল পুলিশ হওয়ার। স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুলিশ নিয়োগে কনস্টেবল পদে আবেদন করেন। চাকরির জন্য সাত স্তরে পরীক্ষা দেন শুভ। যাচাই-বাছাই, শারীরিক যোগ্যতা, লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা এবং দুই দফা মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু শুধু ভূমিহীন হওয়ার কারণে পুলিশে চাকরির স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না তার। এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারুক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, জমি না থাকলে পুলিশের চাকরি হবে না এমন কোনো আইন নেই। শুভ’র সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায়।
কোনো জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে জমি থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
পুলিশে চাকরি পাচ্ছেন এই খবরে পরিবার থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মনে বইছিল খুশির জোয়ার। শুভ চাকরিতে যোগ দেবেন শিগগিরই। এরপর অভাব ঘুচে সচ্ছলতার মুখ দেখবে তার পরিবার। ট্রেনিংয়ে যোগ দিতে ঢাকার মেল ব্যারাক থেকে গাড়িতে পর্যন্ত উঠেন। কিন্তু নিজেদের নামে জমি না থাকায় আটকে যায় তার পুলিশে যোগ দেয়ার স্বপ্ন। হঠাৎ একদিন তাকে জানানো হয়, চাকরিটা হচ্ছে না তার। এমন খবরে যোগাযোগ করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। তাকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট জেলায় নিজেদের জমি না থাকলে চাকরি দেয়ার বিধান নেই। তবে ভূমিহীনের সার্টিফিকেট আনতে পারলে চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাই গত ২৯শে ডিসেম্বর রূপগঞ্জ এসি ল্যান্ড অফিসে ভূমিহীন সার্টিফিকেটের জন্য যোগাযোগ করেন শুভ। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ঘুরেও শুভ সংগ্রহ করতে পারেননি ওই সার্টিফিকেট। পরে গত ৯ই জানুয়ারি শুভর বাবা মো. বাবুল মিয়া সার্টিফিকেট পেতে রূপগঞ্জ ভূমি সহকারী কমিশনার বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু ১০ দিন পার হলেও সার্টিফিকেট পায়নি শুভর বাবা। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এসিল্যান্ডের ভূমিহীনের সার্টিফিকেট দেয়ার ক্ষমতা নেই।
সূত্র জানায়, আরকে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জমি না থাকায় বাবা মা ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। আর শুভ ঢাকায় বোনের বাসায় থেকে পড়াশোনা করছেন। বাবা বৃদ্ধ বাবুল মিয়া ভ্যান চালক। বাবার আয়েই চলে সংসার। কথা হয় শুভর সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা জেলায় পুলিশ কনস্টেবলের শূন্য পদে লোক নিতে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। অনলাইনে আবেদন করলে ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিই। প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলেও উত্তীর্ণ হই। একই স্থানে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় ১৯৭তম স্থান অর্জন করি। শুভ বলেন, আমি যোগ্যতাবলে সাতটি ধাপ পেরিয়ে উত্তীর্ণ হই। এরই মধ্যে আমার পোশাকের মাপ, জুতার মাপ পর্যন্ত নেয়া হয়। এমনকি পুলিশের ট্রেনিং-এ যাওয়ার জন্য মেল ব্যারাকেও যাই। সেখানে নিজেদের জমির প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় আমাকে ট্রেনিং-এ যেতে দেয়া হয়নি। শুধু জমি নেই বলে আমার চাকরিটা হচ্ছে না। মা এই কথা শুনে স্ট্রোক করেছে। এলাকার লোকজন জানতে চান, কবে চাকরিতে যোগ দেবো? কিন্তু আমি তাদেরকে কিছুই বলতে পারি না। উত্তর দিতে পারি না বলে রাতে বাসায় ফিরি। তবে আমি এখনো চাকরির আশা ছেড়ে দেইনি।
আক্ষেপ করে শুভ বলেন, চাকরি পেতে ইতিমধ্যে মহা পুলিশ পরিদর্শক, উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ) ও ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছি। আশা করি তারা আমার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবেন।
মহাপুলিশ পরিদর্শক, উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ) ও ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাববর আবেদনে বলা হয়, পুলিশ কনস্টেবল ২০২১ইং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল পরীক্ষায় নিজ যোগ্যতায় মেধা তালিকায় ১৯৭তম স্থান অধিকার করেও বাংলাদেশের কোনো জেলায় আমাদের কোনো পৈতৃক ভূমি না থাকার কারণে পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী আমার আপন বড় বোনের স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা ১০নং নতুন জুরাইনে কমপক্ষে ১৮/২০ বছর ধরে যৌথ পরিবারে বসবাস করছি। আমার পিতা মাতার নামে স্থায়ীভাবে কোনো জায়গায় ভূমি বা জমি না থাকায় আমাকে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ট্রেনিং যাওয়ার পথে বাদ দিয়ে দেয়া হয়। আমার পরিবারে আমি একমাত্র উপার্জন করার মতো মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আমার মা বাবা বৃদ্ধ ও জটিল রোগে আক্রান্ত। পুলিশে চাকরি করা আমার স্বপ্ন। তাছাড়া, পরবর্তী পুলিশ নিয়োগে আমার বয়স সীমাও পার হয়ে যাবে। বিষয়টি সহানুভূতি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মহোদয়ের সুমর্জি কামনা করছি। এ ব্যাপারে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদারকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ কনেননি।
এর আগে, বরিশালে নিজ যোগ্যতায় সাত স্তরের পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় কলেজছাত্রী আসফিয়ার চাকরি নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসফিয়াকে জমিসহ ঘর এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসন তার জন্য হিজলায় খাসজমিতে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেন। আসফিরার মতো শুভরও পুলিশে চাকরি হবে- এমনটাই প্রত্যাশা।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
amir
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ১০:৩৩

নিজেদের নামে জমি না থাকায় আটকে যায় তার পুলিশে যোগ দেয়ার স্বপ্ন। হঠাৎ একদিন তাকে জানানো হয়, চাকরিটা হচ্ছে না তার।-----অর্থাৎ কথাটা এমন ''ইন্টারপ্রেট'' করা যায় যে, বাংলাদেশের কোটি কটি মানুষের সবার নামে জমি আছে কিন্তু তোমার নামে জমি নাই কেন, তাই তোমার চাকরি হবে না! কথা বললে অনেক লম্বা হবে ,অতএব সাম্প্রতিক সময়ের চাকরির সাথে জমি সংক্রান্ত বাহাসটির /তামাসাটির সরকার অতি তাড়াতাড়ি সমাধান করবে বলেই জনগণ আশা করে।

sdd
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ৮:৩৪

জেলার স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণের জন্য জমি থাকাটা কি গুরুত্বপূর্ণ? কেউ কোন জেলায় একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে বাস করছে এটা প্রমাণ করতে বলা যেতে পারে। যেমন কেউ যদি ভাড়া বাড়িতে থাকে তবে বাড়িওয়ালার থেকে কিংবা কারো আশ্রয়ে থাকলে তার থেকে একটি পত্রই তো যথেষ্ট হওয়া উচিত। তাছাড়া আইনজীবী যেমন বলেছেন, এ ধরণের আইন কি সত্যিই রয়েছে? জেলা কোঠায় চাকরির ক্ষেত্রে অবশ্য এটির গুরুত্ব থাকতে পারে, পুলিশের চাকরি কি শুধু জেলা কোঠাতেই হয়?

SJ
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ১:০৮

শুভ আহমেদ , এলাকার কারো থেকে চুক্তিতে ১ শতাংশ জমি তরিগরি করে দানপত্র রেজিস্টারি করে রেজিস্টার টিকিট জমা দাও।

অন্যান্য খবর