× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সাড়া নেই শিক্ষার্থীদের /পদত্যাগ নয় সমঝোতা চান শাবি ভিসি

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু ও আরাফ আহমদ, সিলেট থেকে
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

পদত্যাগ নয়, ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন চান সমঝোতা। চলমান ঘটনাবলী তিনি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চান। শিগগিরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চাইছেন। এমন কথা গতকাল ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের জানিয়েছেন তিনি। ভিসির কাছে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্ন ছিল এখন কী করা উচিত? জবাবে ভিসি বলেছেন; আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান করতে হবে। পরে আওয়ামী লীগ নেতারাও জানিয়ে এসেছেন, সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তারা করবেন। এ সময় আলোচনায় আসে ওইদিনের সংঘর্ষ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে।
ভিসি ফরিদ উদ্দিনও এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন। ভিসির সঙ্গে আলোচনা শেষে বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষক সমিতি ও সিনিয়র শিক্ষকরা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন। আমরা আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বলেছি- এতে আমাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা থাকবো। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে ক্যাম্পাসের বাইরে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা আশা করছি; পুলিশও ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যাবে। ভিসি ফরিদ উদ্দিন বিরোধী ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল সিলেটের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দু’দিন থেকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর আগে চার দিন প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। রোববার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের ভেতরে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনার পর আন্দোলনটি ভিসি বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই অবস্থায় তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে গতকাল দুপুরের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের নেতৃত্বে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহা ক্যাম্পাসে যান। তারা প্রথমে ক্যাম্পাসের গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া স্মারকলিপিতেও স্বাক্ষর করেন তারা। পরে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন পুরো ঘটনাটি আওয়ামী লীগ নেতাদের অবহিত করেন। ঘটনাবলীর বর্ণনা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে আওয়ামী লীগ নেতা শিক্ষার্থীদের সান্ত্বনা দেন। এবং ক্যাম্পাসে যাতে বহিরাগতদের মধ্যে কোনো গোষ্ঠী যাতে বিশৃঙ্খলা না ঘটাতে পারে সেজন্য শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে তারাও একাত্ম আছেন। শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে চলতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে যাওয়ার জন্য তারা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান। এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর আওয়ামী লীগ নেতারা বাংলোয় গিয়ে ভিসির সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন; ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। এজন্য তিনি সমঝোতার পথই বেছে নিয়েছেন। সমঝোতার জন্য শিক্ষকদের উদ্যোগ নিতে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন। শিক্ষকরা এতে আগ্রহী রয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বস্থ করেছেন। এজন্য তিনি সময় চেয়েছেন। ভিসির কথা আওয়ামী লীগ নেতা আশ্বস্থ হয়েছেন। তারাও সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে চলে আসেন। ভিসি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলশি কুমার দাশ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একই মত প্রকাশ করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে আমরা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই।’ এদিকে গতকাল সকাল থেকে ফের ছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা এসে প্রথমে গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত তারা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ এসে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। অন্য অংশ গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এভাবে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিকালে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন আমরা ভিসির পদত্যাগ চাই। আর কোনো দাবি আমাদের নেই। এই অবস্থায় ক্যাম্পাসে এই ভিসি থাকলে আরও বিতর্কিত ঘটনা ঘটবে। সুতরাং ভিসিকে অপসারণ করে নতুন ভিসি নিয়োগ দিতে তারা চিঠিতে গণস্বাক্ষর নিচ্ছেন। আজ-কালের মধ্যে ডাকযোগে শিক্ষার্থীরা এ চিঠি রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠিয়ে দেবেন। সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা দায়েরের খবর এলে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। মামলার খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষার্থী। তারা জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের নির্বিচারে পিটিয়েছে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের ওপর মামলা দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে নিতে আল্টিমেটামের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ সরিয়ে না নিলে তারা পুলিশের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামবেন। একই সঙ্গে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। পুলিশের হামলায় এখনো অনেক শিক্ষার্থী আহত। এই মামলা দায়ের করে পুলিশ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে চায় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ জন্য বিকালে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলে শিক্ষার্থীরা এতে ইতিবাচক সাড়া দেননি। বরং তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে রয়েছে।
পুলিশের মামলায় আসামি ৩শ’:  সোমবার রাতে অজ্ঞাতনামা ৩শ’ জনকে আসামি করে শাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। এসআই মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার দায়েরকৃত মামলার নম্বর ৫। মামলায় কোনো শিক্ষার্থীর নামোল্লেখ করেনি পুলিশ। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে- রোববার সিরাজুন্নেসা  চৌধুরী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে গত ১৩ই জানুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে শাবি ভিসির মৌখিক আশ্বাসে ছাত্রীরা সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করেন। শনিবার অবধি দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ওইদিন সাড়ে ৫টায় গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন ছাত্রীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৬ই জানুয়ারি আনুমানিক বিকাল ৩টায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেয়।  সেদিন বিকাল সোয়া ৩টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তারা ড. এমএ ওয়াজেদ আলী আইসিটি ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে এসএমপি’র উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ওই ভবনে ঢুকে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান। তিনি ভিসিকে ভবন থেকে বের করার  চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা কারও কথা না শুনে স্লোগান অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত ২-৩ শ’ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ধরে টানাটাানি করে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। চারদিক  থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে। এ ছাড়াও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা সেদিন সোয়া ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা অবধি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থেমে থেমে পুলিশের ওপর আক্রমণ অব্যাহত রাখে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জানমাল, আগ্নেয়াস্ত্র ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়ে। এ ছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভিসিকে উদ্ধার করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
শহীদ
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ৯:৩১

পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের রক্তাক্ত করে যখন দমন করতে পারেননি তখন তো সমঝোতা চাইবেন। ইতিহাসের ক্ষেত্রেও রাজা-বাদশারা এ কাম করতেন।

S I Khan
১৯ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার, ২:২৪

You lost the trust of your students. Isn't a decent thing to resign?

অন্যান্য খবর