× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৭ মে ২০২২, মঙ্গলবার , ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

পেগাসাস নিয়ে ইসরাইলে তুমুল বিতর্ক, ‘কোনো গণতান্ত্রিক দেশ অনুমোদন দিতে পারে না’

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ১৯, ২০২২, বুধবার, ১২:১৩ অপরাহ্ন

সারাবিশ্বে বিতর্ক সৃষ্টিকারী স্পাইওয়্যার পেগাসাস নিয়ে এবার বিতর্ক উঠেছে প্রস্তুতকারী দেশ ইসরাইলেরই পার্লামেন্টে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের কোনো ওয়ারেন্ট বা রায় ছাড়াই সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীসহ বিভিন্ন টার্গেট করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবহার করেছে পেগাসাস। এর মধ্য দিয়ে তারা ইসরাইলের সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হ্যাকিং করেছে। অর্থাৎ তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করেছে।

এ খবর পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক এমপি। পার্লামেন্টের একজন সিনিয়র সদস্য এমপি মেইরাভ বেন আরি বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি পার্লামেন্টে পুলিশের কাছ থেকে জবাব চাইবেন। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রীপরিষদের সদস্য কারিন এলহারার, বিরোধী দলীয় এমপি ইউভাল স্টেইনিটজ।
অনলাইন আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে।

সূত্রের পরিচয় প্রকাশ না করে মঙ্গলবার অর্থনীতি বিষয়ক দৈনিক ক্যালক্যালিস্ট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের এনএসও গ্রুপ প্রস্তুত করেছে পেগাসাস স্পাইওয়্যার। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই স্পাইওয়্যারকে বর্তমানে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। কিন্তু নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সাল থেকে এই পেগাসাস ব্যবহার করেছে ইসরাইলের পুলিশ।

এমনিতেই এই স্পাইওয়্যার নিয়ে বৈশ্বিক চাপের মধ্যে আছে ইসরাইল। অভিযোগ আছে, তাদের কাছ থেকে বিদেশি বিভিন্ন সরকার এই পেগাসাস কিনেছে। তা ব্যবহার করেছে বা করছে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ইসরাইলের ওপর এতদিন বাইরে থেকে চাপ থাকলেও এখন দেশের ভিতরেও সেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যালক্যালিস্টের রিপোর্টের জবাবে ইসরাইলের পুলিশ কমিশনার কোবি শাবতাই বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর হাতে তৃতীয় পক্ষের সাইবার প্রযুক্তি রয়েছে। তবে পেগাসাস ব্যবহার করছেন কিনা তা নিশ্চিত বা প্রত্যাখ্যান করেননি তিনি। আরো বলেছেন, এ সব মনিটরিং কর্মকা- চালানো হয় আইন অনুযায়ী। গত বছর ‘ব্লাক ফ্লাগ’ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে এই স্পাইওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ওই বিক্ষোভকারীরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার চলছে।

এ ইস্যুতে ইসরাইলের চ্যানেল ১২ টিভি নিউজকে এমপি মেইরাভ বেন আরি বলেছেন, তিনি পার্লামেন্টের জননিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির চেয়ার। আগামী সপ্তাহে ক্যালক্যালিস্টের রিপোর্টের বিষয়ে তিনি পুলিশের জবাব চাইবেন। তার ভাষায়, পার্লামেন্টের অনেক সদস্য আমার কাছে এসেছেন। পেগাসাস ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, গণতন্ত্রকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই এই ঘটনা অত্যান্ত হতাশাজনক। যেহেতু এ নিয়ে এমপিরা আমার কাছে এসেছেন, তাই এ বিষয়ে পুলিশকে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ওদিকে ইসরাইলে কোনো কাস্টমার আছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত বা প্রত্যাখ্যান কোনোটিই করেনি পেগাসাস প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনএসও। তারা বলেছে, কোনো সরকারের কাছে একবার তারা এই প্রযুক্তি বিক্রি করার পর তা পরিচালনার সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। এনএসও তার পণ্য বিক্রি করে লাইসেন্স ও বিধিবিধানের অধীনে। মেনে চলে গোয়েন্দা এবং আইন প্রয়োগের বিষয়। এটা করা হয় সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য।

ক্যালক্যালিস্টের ওই রিপোর্ট ইসরাইলের রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রীপরিষদের সদস্য কারিন এলহারার। তিনি ইসরাইল আর্মি রেডিওকে বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশ এমন নজরদারি অনুমোদন দিতে পারে না। বিরোধী দলীয় এমপি ইউভাল স্টেইনিটজ বলেছেন, বিচার বিভাগের তদারকি ছাড়া নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারীদের এমন নজরদারি অন্যায়। যদি এ অভিযোগ সত্য হয় তাহলে তদন্ত হওয়া উচিত।

পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দেখাশোনা করে জননিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ওমর বারলেভ। তিনি টুইটে বলেছেন, স্পাইওয়্যার ব্যবহারের জন্য কোনো বিচারকের কাছ থেকে পুলিশ কোনো কর্তৃত্ব পেয়েছে কিনা, তিনি তা যাচাই করে দেখবেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি একদল কংগ্রেস সদস্য এনএসও এবং বিদেশি তিনটি নজরদারিকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, এদের কারণে কর্তৃত্বপরায়ণ সরকারগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। নভেম্বরে এনএসও’র বিরুদ্ধে মামলা করে অ্যাপল। তারা বলে, আইফোনে যে সফটওয়্যার বসানো আছে, তাতে আড়ি পাতা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করে। এছাড়া এনএসও আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে মাইক্রোসফট, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্লাটফরমস ইনকরপোরেশন, গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশন এবং সিসকো সিস্টেম ইনকরপোরেশনের।

সিটিজেন ল্যাব নামের একটি ওয়াচডগ এর আগে পেগাসাস ব্যবহারের তথ্য উদঘাটন করে। তারা দেখতে পায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, কূটনীতিক এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের টার্গেট করে ব্যবহার করছে পেগাসাস।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর