× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৮ মে ২০২২, বুধবার , ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সারের বাজারে আকাল

বাংলারজমিন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার

দেশের যে ক’টি জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের আবাদ হয় তার মধ্যে সুনামগঞ্জ অন্যতম। জেলার হাওরগুলোতে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো আবাদ। এ সময় জেলাজুড়ে বেশি চাহিদা মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সারের। অথচ এই জাতের সারই কম পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। একইসঙ্গে ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসপেট (টিএসপি) এবং ডাই এ্যামোনিয়াম ফসপেট (ডিএপি) সারও চাহিদার চেয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, অনেক স্থানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সার।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, জুলাই ২০২১ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত জেলায় এমওপি সারের চাহিদা দেয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ১৯ টনের। এরমধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭ হাজার ১৩৮ টন পাওয়া গেছে।
একইসঙ্গে ডিএপি সারের চাহিদা দেয়া হয়েছে ২০ হাজার ৭৮০ টনের, পাওয়া গেছে ১৫ হাজার ৬৫৬ টন, ইউরিয়া সারের চাহিদা দেয়া হয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৬ টন, পাওয়া গেছে ৩৫ হাজার ৪৯ টন।
সারের মূল্য বিষয়ে তিনি জানান, এমওপি ৫০ কেজির বস্তা ৭৫০, টিএসপি ১১০০ এবং ইউরিয়া ও ডিএপি ৮০০ টাকায় বিক্রি করার নির্দেশ রয়েছে। কেউ বেশি মূল্যে বিক্রি করেছেন এমন অভিযোগ জানায়নি। গত ২২শে ডিসেম্বর থেকে সার বিক্রয় কেন্দ্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। ২২শে জানুয়ারি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এ পর্যন্ত ৮ জন ডিলারকে জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, জমিতে হালিচারা রোপণের আগে এমওপি ও টিএসপি সার দিতে হয়। ওই সময়ও বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে, চারা লাগানোর এক মাস পার হয়েছে। এখন ইউরিয়া সার দেয়া প্রয়োজন। দুই-চার দিনের মধ্যে সার দেয়া না গেলে চারা লাল হয়ে যাবে। চারা বড় হবে না। কৃষকরা আরও জানান, যখন বেশি প্রয়োজন হয় তখনই কৃত্রিম সংকট তৈরিসহ নানাভাবে সারের দাম বাড়ানো হয়।
শাল্লার আনন্দপুরের কৃষক মাখন লাল দাশ বলেন, ৯ বস্তা ইউরিয়া সার কিনেছি। প্রতি বস্তা ৯০০ টাকা হিসাবে দাম রেখেছেন খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলার। কিন্তু বিসিআইসি এই সার ৮০০ টাকা খুচরামূল্যে বিক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে। একইভাবে বেশি দামে ইউরিয়া সার কিনেছেন শাল্লার আঙ্গাউড়ার কৃষক ভূষণ দাশ এবং নোয়াগাঁওয়ের কৃষক দেবেশ দাশ।
দিরাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সারের সাব-ডিলার মোহন চৌধুরী বললেন, সারের অপ্রতুলতা আছে। সাদা ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। এমওপি একেবারে কম পাওয়া যাচ্ছে। বেশি দামে বিক্রয়ের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা ৮৫০ টাকা বস্তায় ইউরিয়া সার বিক্রয় করছি। এমওপি সার যে যেমন পারে দামে বিক্রয় করছে।
শাল্লার সারের ডিলার জসিম উদ্দিন বললেন, ২০৫ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছি আমি। ২৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি গত ৪ঠা জানুয়ারি। এখনো সার পাইনি। সিলেটের ফেষ্ণুগঞ্জ সার কারখানা থেকে সার উত্তোলন করলে শাল্লায় এনে পৌঁছাতে খরচ এবং সময় দুটোই বেশি লাগে।
কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জের বাসিন্দা খায়রুল বাশার ঠাকুর খান বলেন, এমনিতেই নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রয় করেন হাওরাঞ্চলের বেশির ভাগ সারের ডিলার। গত কয়েকদিন ধরে এক-রেদড়শ’ টাকা বস্তা প্রতি বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। এমওপি বিক্রয় হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় যে যেভাবে পারে বিক্রয় করছে। কৃষকদেরও বিপদে পড়ে কিনতে হচ্ছে।
শাল্লা উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিভুতোষ চৌধুরী বললেন, শাল্লা উপজেলায় ৫ জন সারের ডিলার রয়েছেন। তাদেরকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রত্যেকের বিক্রয় রেজিস্ট্রার রয়েছে। তারা ৮০০ টাকা বস্তায় ইউরিয়া সার বিক্রি করছেন। কেউ যদি বেশি দামে কিনে ভাউচার কম দামের নেন, কাউকে অভিযোগ না জানান, তাহলে অনিয়ম ধরা কঠিন হয়। এ ধরনের অভিযোগ কেউ জানাননি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর