× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ক্ষোভ-আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ

শেষের পাতা

বিল্লাল হোসেন রবিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে
২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া নাসিক নির্বাচনকে ঘিরে একের পর এক কমিটি ভেঙে দেয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে এ আতঙ্ক। নাসিক নির্বাচনের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাচ্ছে গোছানো সংগঠনের মজবুত ভিত। এমন পরিস্থিতি কখনো দেখেনি দলের প্রবীণ নেতারাও। অন্যদিকে বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে গত ৯ই জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী ৯ দিনের মধ্যে ৩টি কমিটি ভেঙে দেয়ায় অন্য কমিটিগুলোর নেতাদের পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৪
মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভেঙে দেয়া কমিটিগুলোর নেতারা রীতিমত বিব্রত। নির্বাচন চলাকালীন সময়তো বটেই, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ এবং এর পরদিনও দু’টি কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়েছে।

তবে কমিটি বিলুপ্ত করা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত আছে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে। কেউ বলছেন সবগুলো কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে কমিটিগুলো বিলুপ্ত করাটাই স্বাভাবিক। আবার কারও কারও মতে কমিটিগুলোকে ব্যক্তি বলয় থেকে বের করে আনার জন্যই এই ব্যবস্থা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রচারণা চলাকালীন গত ৯ই জানুয়ারি প্রথম বিলুপ্ত করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এর ৮ দিনের মাথায় ১৬ই জানুয়ারি সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন বিলুপ্ত করা হয় স্বেচ্ছসেবক লীগের জেলা ও মহানগর কমিটিসহ সব ইউনিট। পরদিন বিলুপ্ত করা হয় মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে নগরের উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত। উত্তরের নেতৃত্বে রয়েছেন নগরের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবার। আর দক্ষিণের নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে সিটি করপোরেশনের টানা ৩ বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন্দ্র করে। তবে রাজনৈতিক ভাবে ওসমান বলয়েই বেশির ভাগ রাজনীতিবিদের অবস্থান।
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সাংগঠনিক ভাবে শামীম ওসমান বলয় বেশ শক্তিশালী। সংগঠন চালাতে দক্ষ শামীম ওসমান। তিনি তার দক্ষতা দেখিয়েই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে তার অনুসারীদের পদায়ন করেছেন। ফলে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটাতে তাকে বেগ পেতে হয় না। যাকে বলে ‘হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা’।
পক্ষান্তরে আইভী শিবিরে যেসব নেতা রয়েছেন তারা বিভিন্ন সময় ওসমানদের সঙ্গে গা ভাসিয়ে রাজনীতি করেছেন। দলের জন্য তারা নেতা বা কর্মী কোনোটাই তৈরি করতে পারেননি। আইভীপন্থি নেতারা দলের জেলা ও মহানগরসহ সহযোগী অনেক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকলেও তারা ভবিষ্যৎ নেতা বা কর্মী কোনোটাই তৈরি করতে পারেননি। বলতে গেলে তারা একা একাই রাজনীতি করেছেন।
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগে ইতিমধ্যেই মহানগর ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা ও মহানগর কমিটি এবং শ্রমিক লীগের মহানগর কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছেন ব্যক্তি বন্দনার কবল থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে বের করে আনতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা বলেন, যাদের বিষয়ে অভিযোগের আঙ্গুল তোলা হচ্ছে তারা সবাই দলের পরীক্ষিত নেতা। এসব নেতাদের অনেকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর দায়ের করা অথবা তার পক্ষে দায়ের করা মামলার আসামি। এসব মামলা আদালতে চলমান, অথবা তদন্তাধীন। এটা এই নগরের মানুষ জানে। আসামি হয়ে বাদীর সঙ্গে প্রচারণায় নামলে এতে প্রার্থীরই ক্ষতি হতে পারে ভেবে অনেক সংগঠনের নেতারা নীরবে নিভৃতে প্রচারণা করেছেন। তাদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ ছিল না। যেহেতু এটা দলীয় প্রতীকের নির্বাচন। নীরবে কাজ করায় অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচক ভাবে দেখেছেন। যার ফলে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেই অবিশ্বাস থেকে কেন্দ্রীয় নেতা যারা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন পরিচালনা বা মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাদের কাছে ভুল মেসেজ গেছে।   
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, নারায়ণগঞ্জের সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। কেন্দ্র মনে করলে কমিটি ভেঙে দিতে পারেন। এটি সম্পূর্ণ কেন্দ্রের ব্যাপার।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ কেন্দ্র থেকেই একপেশে কমিটি করে দেয়া হতো। এরজন্য কেন্দ্রই দায়ী। এভাবে একপেশে কমিটি করে দেয়ার কারণেই সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনে কী হয়েছে তা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ খুব কাছ থেকে দেখে গেছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রের উচিত হবে সহযোগী সংগঠনের সবগুলো কমিটি ভেঙে দিয়ে সেগুলো পুনর্গঠন করা। তাছাড়া অনেক কমিটি রয়েছে যেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল বলেন, একের পর এক কমিটি ভেঙে দেয়ার নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ রয়েছে। তবে এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। দল দলের নিয়মকানুনের মধ্যেই চলে। তবে আমি বিশ্বাস করি আগামীতে যেভাবেই কমিটি হোক না কেন দলে ত্যাগী নেতাদেরই মূল্যায়ন হবে। সেই সঙ্গে নতুনদের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে আগামীদিনের জন্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
হৃদয়ে বাংলাদেশ
২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার, ৯:২০

নেত্রী হঠাৎ উৎমান বংশের উপর কেন ক্ষুব্ধ হলেন? তিনি তো সংসদে দাঁড়িয়ে উৎমান বংশকে সর্বতো সুরক্ষা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মানবজমিনের সাহসী সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর কলমে একটি লেখা চাই।

অন্যান্য খবর