× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

খানসামায় সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

বাংলারজমিন

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে ইনফিনিটি ক্লিনিক ও কনসালন্টেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে রোগীর স্বজনরা। ক্লিনিকে রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসক না থাকায় সঠিক চিকিৎসাসেবা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি ক্লিনিকে জিনের দোষ থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। জানা গেছে, গত ১৫ই জানুয়ারি উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের ভাদুশাহ্‌পাড়ার নুরজামাল ইসলাম ওরফে লালুর স্ত্রী রফিকা আক্তার (২০)’র প্রসব ব্যাথা শুরু হলে প্রথমে গোয়ালডিহি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান তার পরিবারের লোকজন। পরে ওই কেন্দ্রের কর্মরত তাহেরী আক্তার প্রসূতির সমস্যা গুরুতর বলে ইনফিনিটি ক্লিনিকে ভর্তির পরামর্শ দেন এবং তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকে ভর্তির পর কর্মরত নার্সরা বিকাল থেকে চিকিৎসা দেয় এবং রাতে সাক্ষাৎ মেলে চিকিৎসকের। মধ্যরাতে ডা. জেড রহমান সুমন নিজেই সার্জন ও এনেস্থিসিয়া হিসেবে এবং তার ড্রাইভার রাজকুমারকে সহকারী হিসেবে নিয়ে প্রসূতির সিজার করে চলে যান।
এরপর প্রসূতির শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা ও রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসূতিকে নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রদান করে। এরপর প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ভোর ৪টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্র না দিয়েই মাইক্রোবাস ম্যানেজ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ই জানুয়ারি প্রসূতির মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, ওই ক্লিনিকে ইতিপূর্বেও ভুল চিকিৎসার ফলে কয়েকজনের মৃত্যু ও ভোগান্তির কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবার। প্রসূতির স্বামী নুরজামান ইসলাম ওরফে লালু বলেন, তার স্ত্রীর সিজারের পূর্বে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোনো সমস্যার কথা না বললেও সিজারের পর রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দিনাজপুরে পাঠান। তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকে সঠিক চিকিৎসা হয়নি বলে হাসপাতালে জানতে পারি। ওই প্রসূতির অপারেশনকারী সার্জন ডা. জেড রহমান সুমন ও তার সহকারীর মুঠোফোন ও ক্ষুদে বার্তায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ক্লিনিকের পরিচালক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, ঘটনাটি তেমন গুরুতর নয়। প্রসূতির আগে থেকেই নানা শারীরিক সমস্যা ছিল। তবে জিনের দোষ থাকায় প্রায়ই ক্লিনিকে এমন ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।  
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এধরনের মৃত্যু কাম্য নয়। পাকেরহাট ইনফিনিটি ক্লিনিকসহ অনিবন্ধিত সকল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে জিন-ভূত সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর