× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সীতাকুণ্ড সাগর উপকূল থেকে বালু উত্তোলন করে ফসলি জমি ভরাট

বাংলারজমিন

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ডে সমুদ্র উপকূল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কয়েক একর ফসলি জমি ভরাট করেছে ক্যাপিটাল পেট্রোলিয়াম লিমিটেড। এতে উপকূলীয় বন ধ্বংসের পাশাপাশি সমুদ্র তীরে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। এবার ক্যাপিটালের মতোই পরিবেশ বিধ্বংসী কাজে যোগ দিয়েছে পার্শ্ববর্তী আরেক প্রতিষ্ঠান এনবি স্টিল লিমিটেড। ক্যাপিটালের সহযোগিতা নিয়েই প্রায় এক হাজার মিটার লম্বা জোড়া পাইপ বসিয়ে সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলনের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে সদ্য ওই এলাকায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে সাগরে চষে বেড়াচ্ছে এনবি স্টিলের একাধিক বালু উত্তোলনকারী ড্রেজারও। কোনো ধরনের বৈধতা ছাড়াই বালু উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা। আর এ কাজে তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে ক্যাপিটাল পেট্রোলিয়াম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাড়বকুণ্ড সমুদ্র উপকূলে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সমুদ্র উপকূল থেকে বালু উত্তোলন চলছে। উপকূলীয় বনাঞ্চলও রেহাই পায়নি তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে।
এখানকার বিস্তৃত এলাকাজুড়ে থাকা কেওড়া বন গেল বছরেই কেটে সাবাড় করেছে ক্যাপিটাল। স্কেভেটর দিয়ে সমুদ্র তীরবর্তী মাটি কেটে ফেলায় গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এতে উপকূলীয় বন উজাড় হয়ে সমুদ্রের গভীরতা বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়-সাইক্লোনসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার প্রাকৃতিক রক্ষাবন অঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। দিনরাত ড্রেজার দিয়ে সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও এখনো কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অপরদিকে কৃষি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় সীতাকুণ্ডে কমে গেছে কৃষি জমি। সরজমিন  বাড়বকুণ্ড মাহমুদাবাদস্থ সমুদ্র উপকূলে গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের পূর্বপাশ ঘেঁষে অবস্থিত প্রায় ২শ’ শতক কৃষি জমিতে মাটি কেটে স্তূপ করেছে এনবি স্টিল। চারপাশে পুকুরের পাড়ের মতো মাটি স্তূপ করা হলেও মাঝখানে করা হয়েছে বিশালাকার খাদ। আর খাদ ভরাটেই বালু উত্তোলনের আয়োজন। তিনটি স্কেভেটর দিয়ে চালানো হচ্ছে মাটি খননের কাজ। একইসঙ্গে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বেরিবাঁধ এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মিটার পশ্চিমে অবস্থিত সাগরে লম্বা জোড়া পাইপ বসিয়ে বালু তুলছে প্রতিষ্ঠানটি, আর এ কাজের ইজারা নিয়েছে ক্যাপিটাল। বালু উত্তোলনের পাইপ বসানো হয়েছে ক্যাপিটালের জায়গার উপর দিয়েই। সাগরেও নামানো হয়েছে দুটি শক্তিশালী বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার। এ বিষয়ে ক্যাপিটালের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ বখতিয়ার সুমন বলেন, ‘বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। শুধু সাগর থেকে এনে ভরাট করা হচ্ছে।’ ক্যাপিটালই বালু উত্তোলন করছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সাগর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে কিনা আমি জানি না। যারা আনছে তারাই জানে।’ বালু উত্তোলনের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে বলেন, বালু উত্তোলনকে সাগর থেকে বালু এনে ভরাট বলেই আখ্যা দেন তিনি।
এ বিষয়ে এনবি স্টিলের স্বত্বাধিকারী মো. তছলিম উদ্দিন  বলেন, ‘বালু উত্তোলনের বিষয়টি ক্যাপিটাল দেখছে। আমরা তাদেরকে কন্ট্রাক্টে দিয়ে দিয়েছি। আমি তাদেরকে বলেছি অনুমোদন নিয়ে তারপর যাতে বালু উত্তোলন করা হয়। এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বালু উত্তোলনের জন্য তারা সেটআপ করেছে এটি জানি। তবে বালু উত্তোলন এখনো করছে কিনা জানি না। তারা বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসনে অনুমোদনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছে আমি শুনেছি।সীতাকুন্ড উপকূলীয় বন কর্মকর্তা বলেন, পাইপ বসানোর পর আমরা একবার পাইপ কেটে দিয়েছি। হয়তো আবার তুলছে, সত্যি হলে আবার গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর