× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

হলুদ চাদরে ঢাকা মাঠগুলো, গোমস্তাপুরে সরিষা আবাদের লক্ষ্য ২৫৪০ হেক্টর

বাংলারজমিন

গোমস্তাপুর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

শীতের সিক্ত বাতাশে গোমস্তাপুরের মাঠগুলোতে কৃষকের স্বপ্ন দুলছে সরিষার মৌ মৌ গন্ধে। উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মাঠগুলোতে চোখ পড়বে হলুদ চাদরে ঢাকা। চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। এদিকে ভোজ্য তেলের দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে খরচ হয় কম। সেচ ও সার লাগে অত্যন্ত কম। সরিষা পাতা উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা হয়। চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলায় সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৪০ হেক্টর।
উৎপাদন ধরা হয়েছে তিন হাজার ৬৩ মেট্রিকটন। গত বছরের তুলনায় উপজেলায় এবার বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, দুই একটি চাষাবাদ বা বিনা চাষেই জমিতে ছিটিয়ে সরিষা বীজ বপণ করা হয়ে থাকে। আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক লাগে কম। কম খরচে সরিষা উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে মাঠগুলোতে সরিষার ফুল ফুটতে শুরু করেছে। সরিষা কেটে অনেক কৃষক বোরো ধান চাষাবাদ করবেন। গোমস্তাপুর উপজেলায় এবার ২ হাজার পাঁচশ’ চল্লিশ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে টরি-৭ হচ্ছে ৮শ’ হেক্টর, বারি-১৪ হচ্ছে ১ হাজার একশ’ হেক্টর, বারি-১৫ হচ্ছে ৩৫০ হেক্টর, বারি-১৭ হচ্ছে ১৬০ হেক্টর, বারি-১৮ হচ্ছে ৩০ হেক্টর, বিনা-৯ হচ্ছে ২০ হেক্টর, বিনা-৪ হচ্ছে ৪০ হেক্টর ও স্থানীয় ৪০ হেক্টর জমিতে বপণ করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে জমিতে ভালো ফলন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। গোমস্তাপুর উপজেলার, রহনপুর পৌরসভাসহ চৌডালা, গোমস্তাপুর, রহনপুর, বোয়ালিয়া, আলিনগর, বাঙ্গাবাড়ী, পার্বতীপুর ও রাধানগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে সরিষা চাষাবাদ ভালো করেছেন কৃষকরা। ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। কৃষকের মনে বইছে আনন্দের জোয়ার। রহনপুর এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলা কৃষি বিভাগ  তাকে সরিষা চাষাবাদের জন্য সার ও বীজ বিনামূল্যে সহায়তা করা হয়েছে। জমিতে বীজ বপণ করে সরিষা ভালো হয়েছে। অন্যান্য ফসলের চেয়ে সরিষা চাষাবাদে খরচ কম। উৎপাদন ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সামনে বছর অতিরিক্ত জমিতে সরিষা চাষ করবেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে।  উৎপাদন ধরা হয়েছে  তিন হাজার ৬৩ মে.টন। এ বছর প্রণোদনা বীজ দেয়া হয়েছে দুই হাজার জনকে ও বিভিন্ন প্রকল্পের ৪১৭ জনকে প্রদর্শনী বীজ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন জাতের সরিষা বারি-১৪ ও বারি-১৮ উপেজলায় সমপ্রসারণ করার চেষ্টা করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। নতুন এ জাতের সরিষার ফলন বেশি এবং জীবনকাল কম। সরিষা কেটে কৃষকরা বোরো ধানও উৎপাদন করতে পারবেন। একই জমিতে বছরে ২ থেকে ৩টি ফসল উৎপাদন সম্ভব এবং নতুন জাতের সরিষার ফলন বিঘা প্রতি ৬ থেকে ৭ মণ হবে বলে কৃষি সমপ্রাসরণ কর্মকর্তা সীমা কর্মকার জানান। তিনি ধারণা করছেন চলতি বছর উপজেলায় সরিষার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর