× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সংকট নিরসনে ঢাকায় বৈঠক, ফের আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রীর /কাফন মিছিলের পর এবার গণঅনশনের ডাক শাবিতে

প্রথম পাতা

ওয়েছ খছরু ও আরাফ আহমদ, সিলেট থেকে
২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত থেকে তারা এই দাবিতে গণঅনশনের ডাক দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- দাবি না মানার কারণে তারা গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। আমরণ অনশনের পাশাপাশি গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী লাশ নিয়ে কাফনের কাপড় পরে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। ওদিকে ভিসি নিজ বাংলোতেই অবস্থান করছেন। এই অবস্থায় অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। গতরাতে শাবি শিক্ষক সমিতির  নেতৃবৃন্দ ও ইউজিসি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অপরদিকে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের বেডে শুয়েও তারা অনশন ভাঙছেন না।
ডাক্তাররা শঙ্কিত। বারবার বলছেন, মুখে খাবার না নিলে অন্য উপায় বের করতে হবে। নেয়া হতে পারে আইসিইউতেও। ফলে সার্বিক বিষয়ে শাবির সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বাংলোর সামনেই গত চারদিন ধরে অনশন করছেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের দাবি হচ্ছে- ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ। তুচ্ছ ঘটনায় শাবির এই সংকট। গত রোববার আইসিটি ভবনের ভেতরে ভিসি অবরুদ্ধ হলে পুলিশ গিয়ে ছাত্র পিটিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এরপর এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে। রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। এরপরও ভিসির পদত্যাগ না হওয়ায় বুধবার বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। চারদিনের অনশনে কাহিল শিক্ষার্থীরা। শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ১৬ জনকে ওসমানী মেডিকেলসহ আরও দু’টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৯ জনের মধ্যে কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ফের অনশনে বসেছেন। গতকাল দুপুরে অনশনস্থলে শিক্ষার্থীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে জানান, ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক ছাত্রী খাবার মুখে নিচ্ছেন না। তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি ডা. শিশির বশাকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ডাক্তাররা বলেছেন, আজকের মধ্যে তার মুখে খাবার না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তারা জানান, কোনো শিক্ষার্থীই এখনো খাবার মুখে নেননি। সেলাইন দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার মাধ্যমে বেঁচে আছেন। সবারই এক প্রতিজ্ঞা- ভিসি পদত্যাগ না করলে তারা অনশন ভাঙবেন না। গতকাল দুপুরেও ফের এম্বুলেন্সের দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে। রাতে একপশলা বৃষ্টির কারণে শীত তীব্র হয়। দুপুরে ডাক্তারের পরামর্শে দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে একজনের নিউমোনিয়ার লক্ষণ রয়েছে। ডাক্তাররা তার এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষা করেছেন। এভাবেই চলছে অনশনে থাকা শিক্ষার্থীদের জীবন। চিকিৎসকরা বারবারই বলছেন, তাদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে। চারদিনের অনশনে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি পুষিয়ে নিতে হলে শিক্ষার্থীদের তিন মাস সময় লাগবে। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও অনশনস্থলের মেডিকেল টিমের প্রধান নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, অনশনে থাকা সবাই অসুস্থ। তাদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে। অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত উপসর্গে ভুগছেন। তাদের মুখে খাবার দিতে না পারলে অন্য পথ খুঁজে বের করতে হবে। এদিকে চিকিৎসকরা অন্য উপায়ের বিষয়টি স্পষ্ট করে না বললেও অনশনস্থলে বিক্ষোভে থাকা শিক্ষার্থীদের উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। ২৪ শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা উৎকণ্ঠিত। এদিকে- ভিসি এখনো নিজ থেকে পদত্যাগ করবেন না বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। তিনি সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারের তরফ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটিই তিনি মেনে নেবেন বলে জানান। অনশনস্থলে অসুস্থ শাবি শিক্ষার্থী কাজল দাস গতকাল হাসপাতাল থেকে হুইল চেয়ারে করে অনশনস্থলে ফিরেছেন। তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফ করেন। এ সময় কাজল দাস জানান, তাদের দাবি পূরণ না হলে অনশন চলবে। ভিসির পদত্যাগ ছাড়া তারা অনশন ভাঙবেন না। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আহ্বানের তথ্য তুলে ধরে বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে কোনোভাবে বৈঠক করা সম্ভব নয়। কারণ ঢাকায় যাওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের আর নেই। অনশনস্থল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হতে পারবে না। এজন্য আমরা ভার্চ্যুয়ালি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছি। নতুবা শিক্ষামন্ত্রীকে আমরা ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাই। তিনি ক্যাম্পাসে এলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো। স্বচক্ষে তিনি আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। তিনি জানান, রোববারের পুলিশের হামলার পর ভিসি ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখনো তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সকাল থেকে অনশনস্থলে খবর রটে বিশ্ববিদ্যালয়ের টঙঘর বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর থেকে টঙদোকানের খাবার খেয়েই অনেক শিক্ষার্থী আন্দোলনে রয়েছেন। ফলে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, টঙদোকান বন্ধ করে দিলে আমরা খাবো কী। ভিসি সুকৌশলে আমাদের আইসোলেডেট করতে এমনটি করছেন। এটি করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হবে অনশনে নামতে। দুপুরের দিকে অনশনস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবির। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এই অবস্থায় বাইরে থেকে কেউ আসা উচিত নয়। কোভিড স্বাস্থ্য বিধির কারণে বাইরে থেকে কাউকে ক্যাম্পাসে না আসার আহ্বান জানান। বিকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কাফনের কাপড় পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে যান। এ ছাড়া কয়েকশ’ শিক্ষার্থী চেতনা ’৭১-এর সামনে প্রতীকী লাশ রেখে নীরবতা পালন করেন। পরে গোলচত্বর এলাকায় প্রতীকী লাশ নিয়ে তারা মিছিল শুরু করেন। এ সময় অনেক শিক্ষার্থীর গায়ে ছিল কাফনের কাপড়। মাথায়ও বাঁধা ছিল কাফনের কাপড়। তারা কফিন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন শেষে গোলচত্বরে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, চারদিন ধরে অনশনরত আমাদের সহপাঠীরা অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। এর পরও আমাদের দাবি মানা হচ্ছে না। এ কারণে তারা ক্যাম্পাসে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফের প্রেস ব্রিফিং করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইয়াসিন সরকার। তিনি জানান, ২৪ শিক্ষার্থীর অনশনেও ভিসির টনক নড়ছে না। তিনি পদত্যাগ করছেন না। এখন থেকে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করা হবে। রাত ৮টা থেকে গণঅনশনের ডাক দেন এবং বলেন, এখন যে কেউ চাইলে অনশনে বসতে পারবেন। ভিসির পদত্যাগ দাবিতে রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিলের আয়োজন করেন। এতেও কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় তারা মোমবাতি প্রজ্বালন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবিতে তারা একের পর এক আন্দোলন করলেও সরকার তাতে সাড়া দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কেউ মারা গেলে কী সাড়া দেবে- এমন প্রশ্ন তোলেন তারা। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর ডাকে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় না গেলেও শুক্রবার রাতে সিনিয়র শিক্ষক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলশী কুমার দাশের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিরা ঢাকায় গেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তারাও এই ঘটনার শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। এ বিষয়টি তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর