× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৯ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

পুতিনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ বৃটেনের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক
(৩ মাস আগে) জানুয়ারি ২৩, ২০২২, রবিবার, ২:৩১ অপরাহ্ন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এক অভিযোগ উত্থাপন করেছে বৃটেন। বলা হয়েছে, ইউক্রেনে মস্কোপন্থি একটি সরকার প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছেন পুতিন। এ জন্য তিনি ইউক্রেনের সাবেক এমপি ইয়েভহেন মুরায়েভকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পুতিনকে আক্রমণ করে অস্বাভাবিক এমন অভিযোগ এনেছে বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে প্রায় এক লাখ সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করেছে, এসব সেনা ব্যবহার করে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে রাশিয়া। তবে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সতর্ক করেছেন।
তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে কঠোর মূল্য দিতে হবে রাশিয়াকে। একই রকম সতর্কতা দিয়েছেন বৃটিশ মন্ত্রীরাও। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে উত্তেজনা।

এক বিবৃতিতে বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, ইউক্রেনকে পরাভূত করতে রাশিয়া তৎপরতা নিয়েছে বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ক্রেমলিন ভিতরে ভিতরে যা চিন্তাভাবনা করছে তা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিবৃতিতে বলেন, রাশিয়াকে অবশ্যই উত্তেজনা নিরসন করতে হবে। তার আগ্রাসন ও ভুল তথ্য প্রচার বন্ধ করতে হবে। আসতে হবে কূটনৈতিক পথে। বৃটেন এবং আমাদের অংশীদাররা বার বার বলেছি, ইউক্রেনে রাশিয়ার যেকোনো সামরিক আগ্রাসন হবে ভয়াবহ কৌশলগত ভুল, যার কড়া মূল্য দিতে হবে।

এর আগেও ইউক্রেনের ভূখণ্ড ক্রেমলিন ২০১৪ সালে দখল করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনে রাশিয়াপন্থি প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করার পর এই আগ্রাসন চালায় রাশিয়া। কিন্তু এ বছরের যেকোনো সময়ে ইউক্রেনে আবার আগ্রাসন অথবা অনুপ্রবেশ করতে পারে রাশিয়া- এমন তথ্য দিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা ও ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা বলছে, এ জন্যই সীমান্তে এত বেশি সেনার সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া।

ওদিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোনো প্রকার হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথা প্রত্যাখ্যান করেছেন। পক্ষান্তরে তিনি পশ্চিমাদের কাছে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। তার মধ্যে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক জোটে যোগ দেয়া বন্ধ করতে হবে। পূর্ব ইউরোপে সামরিক মহড়া ও অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করতে হবে ন্যাটোকে। কারণ, এটাকে রাশিয়া তার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখে।

বৃটেনের অভিযোগের জবাবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টুইট করেছে। তারা বলেছে, বৃটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। এতে বৃটেনকে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও বাজে কথাবার্তার প্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

২০১৯ সালে ইউক্রেনে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে শতকরা মাত্র ৫ ভাগ ভোট পেয়েছিলেন ইয়েভহেন মুরায়েভ। ফলে ওই নির্বাচনে তিনি নিজের আসন হারান। তিনি একটি মিডিয়ার মালিক। অবজার্ভার পত্রিকাকে তিনি বলেছেন, বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে হচ্ছে বিভ্রান্ত হয়ে গেছে। তারা কোনো যৌক্তিক কথাবার্তা বলছে না। আমাকে রাশিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়। একই সঙ্গে আমার পিতার প্রতিষ্ঠানের যেসব অর্থসম্পদ আছে, তাও রাশিয়া জব্দ করেছে।

ওদিকে বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের আরো চারজন রাজনীতিকের নাম উল্লেখ করেছে। তারা রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছে। এর মধ্যে আছেন মাইকোলা আজারোভ। তিনি রাশিয়াপন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের সময়ে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালে ইয়ানুকোভিচকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর আজারভ পালিয়ে রাশিয়া চলে যান। সেখানে তাকে বিদেশে নির্বাসিত একটি পাপেট সরকার হিসেবে দেখা হয়। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ইন্টারপোলের লাল নোটিশে আছে তার নাম। এই নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে ইউক্রেন সরকারের অনুরোধে। কারণ, তার বিরুদ্ধে আছে সম্পদ আত্মসাৎ ও অসামঞ্জ্যতার অভিযোগ।

আরেকজন হলেন ভোলোদিমির সিভকোভিচ। তিনি ইউক্রেন ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের সাবেক প্রধান। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে এ সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো যাদের নাম উল্লেখ করেছে তার মধ্যে আছেন সেরহিই আরবুজোভ এবং আঁদ্রিই ক্লুয়েভ। তারা দু’জনেরই সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের অধীনে উপপ্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
rifat
২৩ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ৩:২৩

বর্বর মিথাচারে লিপ্ত এই পশ্চিমা শক্তি। ব্রিটিশ স্পাই গত জুনে প্রথমে ক্রিমিয়ায় ঢুকে পড়ে , গোপনে ইউক্রেনে সেনা ঘাটির নামে ন্যাটোকে নিয়ে মিসাইল রেঞ্জ স্থাপন করার ষড়যন্ত্রসহ আমেরিকার বোমারু বিমান রাশিয়ার ব্লাক সিতে গত নভেম্বরে ঢুকে না পড়লে আজকে পুতিন এতো হার্ড অবস্থানে যেতো না। আগে নিজেদের ন্যাটোর বাড়াবাড়ি কমিয়ে তারপর এসব হিপোক্রেসি কর।

অন্যান্য খবর