× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

শিক্ষা, পর্যটন খাতে এগিয়ে চলেছে খাগড়াছড়ি

বাংলারজমিন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে শিক্ষা, পর্যটন ও নিয়োগে নজির সৃষ্টি করেছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। ২০১৯ সালের ২৯শে আগস্ট খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়তে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার মানবিক মূল্যবোধ ও কর্মদক্ষতায় মুগ্ধ খাগড়াছড়িবাসী। বিশেষ করে জেলার দুর্গম এলাকায় নতুন নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং তার দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শূন্যপদে স্বল্প সময়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে জেলাজুড়ে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তিনি খাগড়াছড়িতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষাকে। পাহাড়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। এরমধ্যে অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের জন্য খাগড়াছড়ি পৌর সদরের শালবনে কালেক্টরেট প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং পৌর সদরে কালেক্টরেট কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
জেলা সদরের পেরাছড়া ইউপির দুর্গম এলাকায় সিয়াই হারুম উচ্চ বিদ্যালয় এবং ভাইবোনছড়া ইউনিয়নে বলং হামারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্গম এলাকা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য পানছড়ি উপজেলার দুর্গম লোগাং উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি ছাত্রাবাস এবং মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থায়ী ছাত্রাবাসও নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকদের আর্থিক সংকট দূরীকরণে প্রায় দেড় কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।

পর্যটন খাতেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছেন তিনি। জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন। মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ঝুঁলন্ত ব্রিজ, নন্দনকানন পার্ক, অ্যামপি থিয়েটার, খুমপুই রেস্ট হাউস ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় গার্ডেনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ইতিমধ্যে নির্মিত হয়েছে ভিউ পয়েন্ট কুঞ্জছায়া ও প্রবেশ মুখে গেট স্বর্ণ তোরণ। কুঞ্জছায়া থেকে দেখা যাবে নয়নাভিরাম খাগড়াছড়ি শহর ও দূরের পর্বতশ্রেণি। এখানে বৃষ্টির সময় মেঘ এসে ছুঁয়ে যায় পর্যটকদের।
তিনি নজির সৃষ্টি করেছেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন নিয়োগেও। গত ২রা ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি জেলার রাজস্ব প্রশাসনাধীন উপজেলা ভূমি অফিস সমূহের ৫টি পদে ১৮ই ডিসেম্বর জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। এ নিয়োগ কার্যক্রম ১৮ই ডিসেম্বর থেকে ২৫শে ডিসেম্বর মাত্র ৭ দিনে সম্পন্ন করে জেলাজুড়ে নজির সৃষ্টি করেছেন। এর আগে গত ৭ই নভেম্বর হতে ২৫শে নভেম্বর মাত্র ১৮ দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সমূহ, সার্কিট হাউস এবং বিভিন্ন উপজেলার প্রসেস সার্ভার শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন জেলা প্রশাসক। বিভিন্ন দপ্তরের যেখানে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বছর থেকে বছর পার হয়ে যায় সেখানে জেলা প্রশাসকের এমন স্বল্প সময়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করায় জেলাজুড়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি।
এছাড়াও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ হাজার ৫৬০টি অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি। অভিযানে সর্বমোট ২০ হাজার ৯৮৯টি মামলা দায়ের এবং ৬৯ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এসব অভিযান এবং মামলায় মোট ২ কোটি ২ লাখ ৩ হাজার ৯৬৭ টাকা অর্থদণ্ডও দেয়া হয়। সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের আপামর মানুষের সার্বিক কল্যাণে নিরন্তর ব্যস্ত এই জেলা প্রশাসক।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে পিছিয়ে পড়া দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীর দিকে আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। তাদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে না পারলে আমরাও পিছিয়ে থাকবো। খাগড়াছড়িতে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে এমন অনেক স্পট রয়েছে যেগুলোকে পর্যটকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে পারলে খাগড়াছড়ি হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। আর আমরা খুবই স্বল্প সময়ে এবং শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে আমাদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। আমাদের নিয়োগ কার্যক্রমগুলো অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি উদাহরণও হতে পারে। স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত জন প্রশাসনকে জনকল্যাণে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। আমাদের উপরে এটা সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব।’ এ সময় সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর