× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

জেলা পরিষদে সদস্য সংখ্যায় পরিবর্তন আসছে

দেশ বিদেশ

সংসদ রিপোর্টার
২৪ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার

জেলা পরিষদে সদস্য সংখ্যা পরিবর্তনের প্রস্তাব করে জাতীয় সংসদে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন-২০২২ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জেলার অন্তর্গত উপজেলার সমানসংখ্যক সদস্য ও এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত সদস্য নিয়ে পরিষদ গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মেয়াদ শেষ হলে জেলা পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশাসক নিয়োগের বিধানও রাখা হয়েছে। গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। পরে বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে কেবল নতুন জেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও চলমান কোনো পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের কোনো বিধান নেই। এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে ৮২ নম্বর ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে কোনো জেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলায় একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরিক্ষত মহিলা সদস্য অর্থাৎ মোট ২১ সদস্যের পরিষদ রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় (জেলার মোট উপজেলার সমানসংখ্যক) একজন করে সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণসংখ্যা) নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে বিদ্যমান আইন ও প্রস্তাবিত আইনে নির্বাচকমণ্ডলী (ভোটার) একই ধরনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। বিলে নতুন ৩৩ (২-ক) উপধারা যুক্ত করে জেলার অন্তর্গত উপজেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পৌরসভার মেয়র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধি জেলা পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে বলা হয়েছে। তবে তাদের ভোটাধিকার থাকবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলে বিদ্যমান আইনের কর্মকর্তাদের পদ-পদবির পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘একজন সচিব’ শব্দগুলোর পরিবর্তে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন নির্বাহী কর্মকর্তা শব্দ প্রতিস্থাপিত হবে। বিলটির উদ্দেশ্য সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে জেলার আয়তন, জনসংখ্যা ও উপজেলার সংখ্যা ইত্যাদি নির্বিশেষে সকল জেলা পরিষদে সমসংখ্যক ২১ জন সদস্য রয়েছে। কিন্তু বৃহৎ আয়তনের তুলনায় ক্ষুদ্র আয়তনের জেলা পরিষদগুলোর রাজস্ব আয় খুবই কম। ফলে ক্ষুদ্র জেলার পরিষদের পক্ষে সদস্যদের সম্মানী পরিশোধ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের পর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ সম্ভব হয় না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রত্যেক জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আর জেলা পরিষদগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার জন্য জেলা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট জেলার সকল উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় সুসংহত করা দরকার। আরও বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে জেলা পরিষদগুলোর মেয়াদ ৫ বছর শেষ হওয়া সত্ত্বেও নতুন পরিষদের ১ম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের পরিষদ দায়িত্ব পালন করতে পরে। এ শর্তটি সংশোধনক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নতুন পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক নিয়োগ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই বিলটি পাস হবে। এরপর দেশের বর্তমান জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক বসানো হবে। চলতি মাসের মধ্যে দেশের প্রায় সবগুলো জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর