× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২১ মে ২০২২, শনিবার , ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৯ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

নতুনরূপে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলারজমিন

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর
২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার

‘বসন্ত বাতাসে সই গো/বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’ ঋতুরাজ বসন্তে প্রস্ফুটিত নতুন ফুলের গন্ধে উন্মাতাল হয়ে লোকশিল্পী শাহ আবদুল করিম গেয়েছিলেন এমন গান। তবে বর্ষপঞ্জি বলছে বসন্ত আসতে এখনো ঢের দেরি। কিন্তু এখনই বাহারি ফুলে ফুলেল প্রাঙ্গণ দেখে খানিকটা অবাকই হতে হয় প্রকৃতিকন্যা খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। রঙ বাহারি এসব ফুল মুগ্ধতা ছড়িয়ে বসন্তের আগেই এনে দিয়েছে ফাগুন হাওয়া।
 ঋতু পরিক্রমায় শীত এখনো আমাদের মাঝে বিরাজমান। মাঘের কনকনে শীতের সাদা ও ঘন কুয়াশা আর বাতাসের শন শন শব্দ, প্রকৃতি ছেয়ে আছে প্রচণ্ড শুষ্কতা আর রুক্ষ্মতায়। কুয়াশার চাদরে আবৃত হয়ে আছে বাংলাদেশ। তীব্র শীতে মানুষ এখনো জড়সড়ো। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাহারি রঙের নতুন ফুলে ফুলে সেজেছে বাকৃবি ক্যাম্পাস।
যেদিকে তাকাই সেদিকেই বিচিত্র সব বিচিত্র ফুলের সমারোহ। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা পুরো ক্যাম্পাস, যা অনন্য এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। প্রাকৃতিক শোভা যেন হাত বাড়িয়ে টেনে আনছে ক্যাম্পাসের সবাইকে। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করার টানে বারবার ছুটে আসছেন বাকৃবিতে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের বাগান। বিশেষ করে প্রশাসনিক ভবনসমূহ, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে, বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরে, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের সামনে, বিভিন্ন অনুষদ ভবনের সামনে এবং প্রত্যেক হলের ভেতরে এবং বাইরেসহ ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি স্থানে গড়ে উঠেছে সুন্দর সুন্দর ফুলের বাগান। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরের সৌন্দর্য। পুরো মাঠজুড়ে হলুদ, লাল, গোলাপি আর সবুজের সমারোহ অদ্ভুত ভালোলাগা সৃষ্টি করছে প্রকৃতিপ্রেমীর হৃদয়ে।
এসব বাগানে ফুটেছে নানান প্রকৃতির ফুল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন ধরনের গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, গোলাপ, আকাশি-সাদা স্নোবল, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগ ঝুঁটি, কসমস, জুঁই, চামেলী, টগর, বেলীসহ নানান প্রজাতির ফুল।
প্রতিদিন প্রকৃতির সুশোভিত সবুজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসে সব বয়সের দর্শনার্থী বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা। প্রকৃতির টানে ব্যস্ত সময়ে একটু অবসরের প্রয়োজনে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে এই ক্যাম্পাসে। যেখানে প্রকৃতির মধ্যে যুক্ত হয়েছে এই ফুলের বাগান।
এর মধ্যে নিজেকে ক্যামেরায় বন্দি না করলে চলেই না। চারদিক থেকে ভেসে আসে ক্যামেরার ক্লিক, ক্লিক শব্দ। ছবি ও সেলফি তোলায় ব্যস্ত থাকে সবাই। কেউ ব্যস্ত সেলফি তোলায়, আবার কেউ ব্যস্ত বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ছবি তুলতে আর কেউ ব্যস্ত নিজের ছবি তোলায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুল দেখতে স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে বাকৃবি’র সবুজ ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, প্রতি বছরই আমাদের ক্যাম্পাসে এই সময়টায় বাহারি ফুলে ছেয়ে যায়। ক্যাম্পাসকে তখন আরও বেশি চমৎকার লাগে। বিকাল থেকে সন্ধ্যা, এই সময়টা খুব ভালো লাগে ফুলের স্বর্গে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, শীতকালে এত সুন্দর ফুল শুষ্ক প্রকৃতিকে সতেজ করে তুলেছে। খুব ভালো লাগছে ঘুরতে এসে। মনে হচ্ছে এখনই বসন্তের আবহ তৈরি হয়ে গেছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Amir
২৫ জানুয়ারি ২০২২, মঙ্গলবার, ৬:১৫

পাল্লা দিয়ে বাহারি রঙের নতুন ফুলে ফুলে সেজেছে বাকৃবি ক্যাম্পাস।------‘বসন্ত বাতাসে সই গো/বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে।’এই গানের স্রষ্টা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের এলাকা সিলেটের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও এরকম ফুলের সমারোহ সহ আর্বোরিকালচার কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত ছিল ! কিন্তু সেরকম মন কেড়ে নেওয়ার মতো কোন দৃশ্য চোখে পড়ে না।

অন্যান্য খবর