× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৬ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

সরাইলে ৭ মেশিনে চলছে নদী সেচ

বাংলারজমিন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের কুইট্টা সেতুর দুই পাশে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল তিতাস নদীর শাখা পুটিয়া নদীতে প্রতিবছরের এ সময়ে বাঁধ দিয়ে পানি সেচে নদীর তলদেশ থেকে মৎস্য নিধন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও গত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে ৭টি সেচ যন্ত্রে (শেলু মেশিনে) দিনে রাতে চলছে নদী সেচের কাজ। এখানে নদী শুকাতে আরও ৪-৫ দিন লাগার কথা জানিয়েছেন সেচ কাজে নিয়োজিত লোকজন। কৃষি কাজের পানির সমস্যায় ভুগছেন কৃষকরা। আর সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কুইট্টা হাওর এলাকার উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় জাতের মাছের বংশবৃদ্ধি হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। প্রতিবছরই একটি মহল আইন অমান্য করে এ কাজটি করলেও প্রশাসন নির্বিকার। নিয়ম না থাকলেও মূল ইজারাদার দিয়েছেন সাব লিজ। চলে থাকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভাগ-বাটোয়ারা।
এভাবেই চলছে ওই নদীতে বাঁধ দেওয়া, সেচ ও মাছ নিধনের কাজ।
সরজমিন দেখা যায়, এ সড়কের কুইট্টা সেতুর দুই পাশে মাটি দিয়ে দেয়া হচ্ছে বাঁধ। সেতুর পূর্ব পাশে পুটিয়া নদীর তিনদিকে ৭টি শেলু মেশিনে চলছে সেচ কাজ।  ছোট ওড়া ঘর তৈরী করে দিনে রাতে সেচ কাজ পরিচালনা ও মাছ ধরছেন ৩-৪ জন লোক। তাদেরই একজন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক মিয়া (৪৮)। রাজ্জাক মিয়া জানান, ধর্মতীর্থ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি নদীর জায়গা লিজ এনেছেন। সভাপতি দুর্গাচরণ দাসের কাছ থেকে আমরা ২৫ লাখ টাকায় ক্রয় করেছি। আশে পাশের জায়গার মালিক জজ মিয়া শিপন মেম্বারসহ আরও কয়েকজনও টাকা পেয়েছেন। হাত উঁচিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হাওরে একটি গাছ দেখিয়ে বলেন, সেখান থেকে আমরা সেচ কাজ চালিয়ে আসছি। এর আগে পাটি দিয়ে নদীতে বাঁধও দিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। ২৫ লাখ টাকার পর লাভ। চিন্তায় আছি। খুব বেশি লাভ হবে না। আমরা প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে লাভ পেতে পারি। নদীর এ জায়গায় গত এক মাসেরও অধিক সময় ধরে সেচ যন্ত্র দিয়ে (শেলু মেশিনে) পানি সেচ করছি। প্রথমদিকে ৭টি মেশিন ছিল। পানির গভীরতা প্রায় ৩০ ফুট। পানি কমে আসছে। তাই বর্তমানে ৩টি মেশিনে চলছে সেচ। নদী শুকাতে আরও ৪-৫ দিন লাগতে পারে। উন্মুক্ত জলাশয়ের বিশাল এলাকায় টানা একমাস ধরে পানি সেঁচ করে নদীর তলদেশ শুকিয়ে মাছ নিধন চললেও প্রশাসন নীরব। ইজারাদার ধর্মতীর্থ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি দুর্গাচরণ দাস বলেন, আমি সাব- লিজ দেয়নি। নিজেই করছি। উন্নয়ন প্রকল্প স্কিমের আওতায় মন্ত্রণালয় থেকে ৬ বছরের জন্য লিজ এনেছি। প্রতিবছর রাজস্ব খাতে জমা দিতে হচ্ছে ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮০ টাকা। পুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে নিচে পাইপ দিয়ে বাঁধ দেবো। মন্ত্রণালয় থেকে ৪ হাজার ঘনফুট মাটি কাটার নির্দেশ রয়েছে। সেটিও করবো। না শুকালে মাটি কাটবো কীভাবে? উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোসা. মায়মুনা জাহান বলেন, এটি নদী নাকি বিল? আগে নদী ছিল। এখন বিল। খালে পানি থাকে না। সম্পূর্ণ সেচ করা যাবে না। সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু পানি কমিয়ে মাছ ধরবেন। তলদেশ পুরো শুকাবেন না। ইজারাদার নিজে মাছ ধরবেন। সাব-লিজ দেয়ার কোনো বিধান নেই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আইনগত ব্যবস্থা  নেবো।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর