× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

কফিল এখন ঠিকানাবিহীন, স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
২৬ জানুয়ারি ২০২২, বুধবার

চার বাড়ির মালিক কফিল উদ্দিন এখন ঠিকানাবিহীন। স্ত্রী-পুত্রের নির্যাতনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, ঘুরছেন পথে পথে। কুয়েত ফেরত এই ব্যক্তি তার সকল সহায়-সম্পদ গ্রাস করে নিতে স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ও ছেলে সাইফুল ইসলামের করা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে। তার বাড়ি জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কফিল উদ্দিন জানান, ১৯৮৯ সালে তার বড়ভাই আব্দুল মজিদ মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন তিনি। বড় ভাই চার ছেলে ও ছোট এক মেয়ে রেখে মারা যান। এরমধ্যে হোসনে আরার ঘরে তারও এক ছেলে সন্তান জন্ম হয়। বড় ভাইয়ের চার ছেলেকে নিজের টাকায় বিদেশে পাঠান এবং নিজে দীর্ঘ ২৬ বছর কুয়েতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে গত ২০১৯ সালে দেশে চলে আসেন।
প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রতিবারই দেশে ছুটিতে আসার পর জায়গা-জমি কেনেন। ২৬ বছর প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকায় চারটি বাড়ি, স্থানীয় ধারিয়ারচর বাজারে একটি দোকান এবং ১৭ কানি জমি কিনেছেন।
দেশে আসার পর নিজের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাকে ব্যবসার জন্য টাকা দিতে চাপ সৃষ্টি করে। পরে ১২ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় বাজারে একটি কাপড়ের দোকান করে দেন। এরপর প্রবাসে থাকাকালে স্ত্রীর কাছে জমি কেনার জন্য রেখে যাওয়া ১০ লাখ টাকার হিসাব চাইলে স্ত্রী ও ছেলে মিলে জায়গা-সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তারা সকল সম্পত্তির দলিল নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। সম্পদের দলিলগুলো বুঝে পেয়ে বণ্টন করে দেবো বললেও তারা তাতে রাজি না হয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। বিদেশে থাকা ভাইয়ের চার ছেলের শলাপরামর্শে তারা আমার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। গত ৫ মাস আগে আমাকে আমার ভাগ্নির বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসে। এরপর আমাকে ঘরে আটকে রেখে সম্পত্তি লিখে দেয়ার জন্য শারীরিক নির্যাতন চালয়। এক পর্যায়ে আমাকে ট্যাংকের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। পরে অচেতন অবস্থায় আমার টিপসই নিয়ে কিছু সম্পদ তাদের নামে লিখে নেয়। বাঞ্ছারামপুর থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার পরই বাড়ি ছাড়া করা হয় তাকে। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা করার পর থেকে তাকে মারার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে ছেলে ও স্ত্রী। কফিল বলেন, আমার নিজের ঘর-বাড়ি থাকা সত্ত্বেও পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমার ওপর যে অন্যায়, অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, সেটির বিচার চাই। আমার সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থে গড়া সম্পত্তিগুলো ফেরত চাই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা চাই। তবে বাবাকে নির্যাতন করে সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কফিল উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা নিজের ইচ্ছায় আমাদের সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। বাবাকে কখনোই সম্পত্তির জন্য নির্যাতন করা হয়নি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর