× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ১৯ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ট্রাকের মাটি পড়ে পাকা সড়কে কাদা, দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে
২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

চলমান ট্রাক থেকে মাটি পড়েছে পাকা সড়কে। গত বুধবার দুপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে তৈরি হয়েছে কাদা। দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন। কিশোরগঞ্জ-মরিচখালী সড়ক ও করিমগঞ্জ-নিকলী সড়কের প্রায় ১৫ কিলোমিটারে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, সড়ক দুটিতে কাদা-পানি একাকার। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। একের পর এক দুর্ঘটনায় পড়ছে মোটরসাইকেল। বুধবার দিবাগত রাতে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
ফলে গত দুই দিনে দুটি সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুর থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত সড়ক দুটিতে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল কাদায় পিছলে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। গতকাল সড়ক দুটিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ভয়ে ভয়ে নিম্নগতিতে কয়েকজনকে মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেছে। কাদায় সড়কের পাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে নলী বিলের মাটি ইজারাদারেরা দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেন। এখন খয়রত, মদন ও মরিচখালী গ্রামের সামনে বড় হাওর এলাকার কৃষকেরা টাকার বিনিময়ে ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এসব মাটি আশপাশের গ্রামের বসতভিটা ভরাট করার জন্য নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও এসব মাটি যাচ্ছে জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন ইটভাটায়। মাটি নেয়ার জন্য সড়ক দিয়ে দিনরাত চলাচল করে ট্রাক ও ট্রলি। পরিবহনের সময় মাটি পড়ে সড়কে। রাতে বেশি কুয়াশা পড়লে সকালে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে থাকে। গত দুইদিন কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে কাদাপানির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক দুটিতে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে এ দুটি সড়ক হয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে বাড়িতে যাওয়া-আসা করেন নিকলীর কারপাশা ইউপি চেয়ারম্যান তাকি আমান খান। তিনি বলেন, ‘মাটির ট্রাকের জন্য বিপদে আছি। এতদিন ধুলার মধ্যে ছিলাম। এখন কাদার মধ্যে আছাড় খেতে হচ্ছে। প্রশাসনকে জানালেও বিষয়টি তারা দেখছে না।’ খয়রত মোড় এলাকার ব্যবসায়ী মুখছেদুল মমিন সবুজ (৪৭) বলেন, ‘এখানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মাটি বহনকারী ট্রাক যাওয়া-আসা করে। ট্রাকের চাকার ঘর্ষণে কাদামাটি দোকানের ভেতরে আইসা পড়ে। আমরা বড় বিপদের মধ্যে আছি।’
এলাকার মদন গ্রামের বাসিন্দা জুনায়েত কবির (৪০) বলেন, ‘আড়াই লাখ টাকায় নতুন মোটরসাইকেল কিনে কাদার কারণে রাস্তায় নামতে পারিনি। প্রথমদিন কিশোরগঞ্জ থেকে আসার সময় মোটরসাইকেলটি ৭/৮ কিলোমিটার ঠেলে আনতে হয়েছে।
গুনধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু ছায়েম রাসেল ভূঁইয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ট্রাক দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ট্রাক যাওয়ার সময় মাটি সড়কে পড়ছে। করিমগঞ্জের ইউএনওকে আমি একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি। এখন কার কাছে গেলে যে এর সমাধান পাবো, জানি না।’
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, ‘সড়কে মাটির ট্রাক চলাচল করলে মানুষের দুর্ভোগ হওয়ারই কথা। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।’
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর