× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২০ মে ২০২২, শুক্রবার , ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

দখল দূষণে বিপর্যস্ত মহানন্দা-পুনর্ভবা

দেশ বিদেশ

চাঁপাই নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

চাঁপাই নবাবগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী দুই নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবা ছিল অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। নব্বইয়ের দশকেও মহানন্দা আর পুনর্ভবা নদীতে বারো মাস পানির প্রবল স্রোত বইতো। কিন্তু বর্তমানে এ অঞ্চলের অন্যান্য নদীর মতোই এ দু’টি নদীও যৌবন হারিয়ে মৃতপ্রায়। স্রোতহীন নদী দু’টির কোনো কোনো জায়গায় শুকনো মৌসুমে হাঁটুপানিও থাকে না। একই সঙ্গে নদী দু’টি আজ দখল-দূষণে বিপর্যস্ত। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ৪৮ নদী সমীক্ষা প্রকল্পের এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষা বলছে- চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর ভূমির সীমানা নির্ধারণ করা বা পিলার স্থাপন করা হয়নি। নদীগুলোর অববাহিকা, ফোরশোর এবং প্লাবনভূমিও চিহ্নিত করা হয়নি।
তবে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর দখল চিহ্নিত হয়েছে ১৭৭১টি, বিভিন্ন ধরনের দখলের মধ্যে দোকান রয়েছে ১৫২টি, বসতবাড়ি ১৫২২টি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১৩টি, ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ২০টি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ৫টি এবং ধানের চাতাল রয়েছে ২৫টি। অবৈধ দখল নদীর জমি ও তীরভূমিকে ক্রমান্বয়ে গ্রাস করছে ও নদীকে সংকুচিত করে ফেলছে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে, নদীর গতিপথের পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে, ব্যাপক বন্যা ও নদীভাঙনের কারণ হচ্ছে এবং ইকোসিস্টেমের ক্ষতি করছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দিয়ারা জরিপ পরিচালিত হচ্ছে না। নদীর জমি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় চলে যাচ্ছে।
সমীক্ষার তথ্যমতে, প্রতিনিয়ত দূষণের কবলে পড়ছে মহানন্দা ও পুনর্ভবার পরিবেশ। চাঁপাই নবাবগঞ্জ শহরের ড্রেন দিয়ে বর্জ্য পড়ছে মহানন্দায়। দূষিত হচ্ছে পানি। বিভিন্ন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীর পাড়েও। মহানন্দা নদীতে দূষণের উৎস ২৬টি এবং পুনর্ভবা নদীতে দূষণের ৫টি উৎস চিহ্নিত করেছে নদী রক্ষা কমিশন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নদীগুলো বাঁচাতে হবে। একই সঙ্গে সারা বছর পানি ধরে রাখতে খাঁড়িগুলোও খননের প্রয়োজন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চাঁপাই নবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, মহানন্দা নদীর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পৌরসভার আবর্জনা ও কলকারখানার বর্জ্যে মহানন্দার দূষণ বাড়ছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জে নদীর দখল ও দূষণ রোধে কারও কোনো পদক্ষেপ নেই। এ বিষয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনেরই উদ্যোগ নেয়ার কথা। তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা নিতে দেখছি না। তিনি আরও বলেন, নদী দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করছে দখলদাররা। এসব দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে চাঁপাই নবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক একেএম গালিব খান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় নদী হচ্ছে লাইফ লাইন; উচ্চ আদালতের রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। এখন নদীর যে গুরুত্ব সেটি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। নদীর স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের সবার করণীয় রয়েছে। আমরা সম্মিলিতভাবে চাঁপাই নবাবগঞ্জের নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর