× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৩ মে ২০২২, সোমবার , ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

‘ইসি আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না’

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার
২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার

নির্বাচন কমিশন আইন করেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, এই আইন দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বাকশাল-গণতন্ত্র হত্যার কালোদিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সেদিনও বাকশাল করেছিল নিজেদের বাঁচানোর আশায়, আজকেও তারা একটা নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করলো। ভাবছে, তারা বেঁচে যাবে। কিন্তু তারা ভুলে গেল, বাকশাল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। নির্বাচন কমিশন আইন করেও তাদের শেষ রক্ষা হবে না।
খুব দ্রুত সময়ে এ আইন করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৭ই জানুয়ারি এ আইন মন্ত্রিসভায় পাস করা হয়েছে। ২৩শে জানুয়ারি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। তারপর এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিল সংসদীয় কমিটিকে, তাতে কোনো সংযোজন বা পরিবর্তন থাকলে যেন সংসদে নিয়ে আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। তারা আজকে হাউসে (সংসদ) নিয়ে এসে সেটাকে পাস করলো। এই আইন পাস করার কোনো এখতিয়ার এ সংসদের নেই বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, এই সংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ নয়। সুতরাং এ আইন আমাদের কাছে নয়, সারা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্রিয়েশন অব বাকশাল, বাকশাল তৈরি করাটা ছিল বাংলাদেশের আত্মাকে হত্যা করা, বাংলাদেশের জাতির আত্মাকে হত্যা করা। কারণ আমাদের জাতিসত্তা সবসময় একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চেয়েছে। আমরা একটা গণতান্ত্রিক সমাজে বাস করতে চেয়েছিলাম। দেশের ইতিহাস বহু আগ থেকে লক্ষ্য করে দেখেন-এদেশের মানুষ স্বাধীনচেতা। ঢাকার বারো ভুঁইয়া, ঈসা খাঁ, সূর্য সেন- এই সমস্ত মানুষের কথা আপনারা জানেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সেই স্বাধীনতার জায়গাটাতে আঘাত করতে চেয়েছিল। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিলো, অর্থাৎ বহুদলীয় ব্যবস্থাটার যে মূল কথাটা সেটাকে তারা উড়িয়ে দিলো এই একদলীয় ব্যবস্থা বাকশাল করে।
 কোনো পত্রিকা চলবে না, চারটা পত্রিকা থাকবে- তাও সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কেউ কোনো কথা বলতে পারবে না। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে তথাকথিত তাদের ভাষায় রাষ্ট্র মানে এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। মুজিববাদ ছাড়া কোনো বাদ থাকবে না, কথা থাকবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যারা ভিন্নমত চিন্তা করতাম। ওই সময়ে হাজার হাজার মানুষ কারাগারে গেছে, হাজার হাজার তরুণ-কিশোর নিহত হয়েছে। অস্বীকার করতে পারবে কী করে? ইনুই (হাসানুল হক ইনু) তো সাক্ষী। এই এখন যেমন আমাদের বহু তরুণ-যুবকেরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। মামলা-মোকদ্দমা বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে। তখনো কিন্তু একইভাবে হাজার হাজার তরুণ-কিশোর বিদেশে চলে গিয়েছিল। তারা জার্মানি, ইউরোপে আছেন এখন। বাকশাল আমাদের জন্য একটা ত্রাস হয়ে সামনে এসেছিল।
তিনি বলেন, আজকের দিনের সঙ্গে বাকশাল শাসনামলের খুব মিল আছে। আমি গত ১০ বছর যাবৎ এটা বলি সবসময়, প্রায়ই বলি- এখন বাকশালটা নাই, একটা নতুন মোড়ক আছে, গণতন্ত্রের মোড়ক। উপরে একটা গণতন্ত্রের লেবাস, আলখেল্লা আছে। ভেতরে পুরো বাকশাল। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন প্রমুখ।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
আক্তারুজ্জামান
২৮ জানুয়ারি ২০২২, শুক্রবার, ৫:৩৯

করনীয় কি

অন্যান্য খবর