× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৬ মে ২০২২, বৃহস্পতিবার , ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

আমতলীতে বসবাসের অযোগ্য আশ্রয়ণের ৫৫০টি ঘর

বাংলারজমিন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

বরগুনার আমতলী উপজেলায় আশ্রয়ণের ৫৫টি ব্যারাকের ৫৫০টি ঘর সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত হওয়ায় লতাপাতা-আগাছায় ভরে আছে। বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ঘরের দরজা, জানালা এবং চালার টিনগুলো মরিচা ধরে খসে পড়েছে। ঘরে মানুষ না থাকার সুযোগে অনেক জায়গায় দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকা মূল্যের টিন, লোহার এঙ্গেল খুলে নিয়ে গেছে। ঘরগুলো সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ বসবাসরতদের।
জানা গেছে, নদীভাঙনে গৃহহারা ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর আবাসনের জন্য ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ও নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গৃহনির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প। এ ছাড়া ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর জাপান সরকারের সহায়তায় নির্মাণ করা হয় ব্যারাক হাউস নামে আরেকটি প্রকল্প। আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, আমতলী উপজেলায় ৮টি আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে।
এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫৫টি ব্যারাকে ৫৫০টি ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘর সংস্কার না করায় বর্তমানে মানুষের ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ ঘরে এখন আর কোনো পরিবার বসবাস করে না। গুলিশাখালীর কালিবাড়ী ১০টি ও হলদিয়া ইউনিয়নের সেনের হাটের পূর্বপাশে নির্মিত ঘরে ২০টি পরিবারসহ মোট ৩০টি পরিবার থাকার কথা থাকলেও এখন কেউ নেই। ব্যারক দু’টি খালি পড়ে আছে।
কালিবাড়ী আশ্রয়ণের ঘরের বেড়ার টিন সব খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আঠারগাছিয়া ইউপি’র গোলবুনিয়া গ্রামের স্লুইস গেট সংলগ্ন আশ্রয়ণের ১০টি ঘরের অবস্থা। এখানে ১০টি পরিবারের থাকার কথা আছে ১টি পরিবার। এখানের দরজা জানালা এবং চালার টিন খুলে নিয়ে গেছে চোরে। ফাঁকা স্ট্রাকচার পড়ে আছে। একই অবস্থা আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের মধ্য যুগিয়া ৪টি ব্যারাক হাউজের ৪০ ঘরে এখন আর কেউ বসবাস করে না। সেখানের দরজা জানালা টিন সব চুরি হয়ে গেছে। একই অবস্থা আমতলী সদর ইউনিয়নের চারঘাট, গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া এবং হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া আশ্রয়ণের ঘরের। কালিবাড়ী এবং দক্ষিণ পশ্চিম আমতলীর গোলবুনিয়া আশ্রয়ণে ঘুরে দেখা গেছে, ঘরের কিছুই নেই। ফাঁকা পড়ে আছে বেড়াবিহীন ঘরগুলো।
দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া আশ্রয়ণের ঘর সরজমিনে দেখা গেছে, ১৫টি ব্যারাকে ১৫০টি পরিবারের বসবাসের কথা। আছে মাত্র ১০-১১টি পরিবার। ভয়াবহ কষ্টের কারণে তারাও চলে যেতে পারে যেকোনো সময়। এখানে ১০টি ব্যারাকের কোনো ঘরের চালার টিন নেই। যেগুলোতে আছে সেগুলোর চালা ফুটা। বর্ষা মৌসুমে পানি পড়ে। রোদের সময় আবার টিনের ছিদ্র দিয়ে রৌদ্র প্রবেশ করে ঘরে। নির্মাণের পর সংস্কার না করায়, দরজা জানালা খুলে পড়ে গেছে। অধিকাংশ ঘরের টিন মরিচা ধরে পড়ে যাওয়ায় লোহার স্ট্রাকচারগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তার ওপর গুল্মলতা আর বুনো ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। এলাকার লোকজনের অভিযোগ- এসব ঘর নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘর মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া আশ্রয়ণে বসবাসরত মুনছুরা বেগম বলেন, ‘ঘরের টিনের চাল সব ফুটা অইয়া গ্যাছে। দেওই অইলে পানি পড়ে আর রৌদ অইলে ফুটা দিয়া ঘরের মধ্যে রৌদ ঢুইক্যা যায়। মোরা হেইয়ার লইগ্যা এহন এই ঘরে ঠিকমতো থাকতে পারি না, ঘুমাইতে পারি না।’ তক্তাবুনিয়া আশ্রয়ণে বসবাসরত সুলতানা বেগম বলেন, ‘ঘরের অবস্থা এতই খারাপ স্যার মোরা এহন আর এই ঘরে থাকতে পারি না। চাল দিয়া দেওয়ার সময় খালি পানি পড়ে। হেইয়ার লইগ্যা না হইলে পাতা আর পলিথিন দিয়া এহন ঘরে থাকতে হয়।’
আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘নির্মাণের পর আশ্রয়ণের ঘর সংস্কার করা হয়নি। ঘরগুলো সংস্কারের অভাবে আশ্রয়ণে বসবাসকারী পরিবারগুলো থাকতে পারছে না। এগুলো দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’ আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়া গেলে এবং বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।’ আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ মুঠোফোনে বলেন, ঘরগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর