× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিমত-মতান্তরবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে কলকাতা কথকতাসেরা চিঠিইতিহাস থেকেঅর্থনীতি
ঢাকা, ২৯ মে ২০২২, রবিবার , ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৭ শওয়াল ১৪৪৩ হিঃ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা /২৮তম দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই

বাংলারজমিন

জয়নাল আবেদীন জয়, রূপগঞ্জ থেকে
২৯ জানুয়ারি ২০২২, শনিবার

১লা জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত মাসব্যাপী ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৮তম দিন শেষ শুক্রবার দর্শনার্থীদের বাঁধভাঙ্গা ভিড় দেখা গেছে। অন্য দিনের চেয়ে শেষ মুহূর্তে শুক্রবার সকাল থেকে রাত অবধি লোকসমাগম ছিল অনেক বেশি। তবে বাণিজ্য মেলায় স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব, আইনশৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও ভোক্তা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও মেলায় প্রবেশের পর তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি অনেককে।
গতকাল শুক্রবার সরজমিনে দেখা গেছে, স্থায়ী ভেন্যু পূর্বাচল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার শেষ মুহূর্তে ২৮তম দিন  ও মাসের শেষ সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার সকাল থেকে রাত অবধি বিভিন্ন পেশার লোকজন দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে আসতে দেখা গেছে। প্রবেশপথে পুলিশ, স্কাউটস্‌ ও স্বেচ্ছাসেবক স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুখে মাস্ক পরিহিত ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি। প্রবেশপথে করোনা থেকে রেহাই পেতে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মেলার ভেতরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনেককেই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড় দেয়ায় লোকজন বিভিন্ন স্টল থেকে তাদের পছন্দের সামগ্রী কেনাকাটা করছেন।

জানা যায়, স্টলের খাবারের মান, মূল্য তালিকা প্রদর্শন, মোড়কে পণ্যের ওজন, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, ক্রেতা-বিক্রেতা, দর্শনার্থীদের মাস্ক ব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়মনীতি বাস্তবায়নে নিয়োজিত পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার, স্কাউটস, স্বেচ্ছাসেবক, মেলা আয়োজক ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছেন শুরুর দিন থেকে।  প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন। কিন্তু খাবারের মান নিম্নমানের ও দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেক দর্শনার্থী। মেলার শুরু দিন থেকে এ পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মাস্ক না পরা, খাদ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও পণ্যের দাম বেশি রাখা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির অনিয়মে ৫২টি মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলায় অনিয়মকারীকে নগদ জরিমানা আদায় করে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বাণিজ্যমেলা সুষ্ঠু ও নিয়মনীতির মধ্যে পরিচালনা করার জন্য প্রশাসন সর্বদা থাকায় স্টল মালিক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ক্রেতা, বিক্রেতারা মাস্ক ব্যবহার করেই পণ্য কেনাবেচা করতে দেখা যায়। এদিকে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার দায়িত্বে থাকা ৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মেলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূরজাহান আরা খাতুন। ইরান জুয়েলারি সিলভার অ্যান্ড স্টোনের দোকানদার ওবায়েদ বলেন, বিগত মেলাগুলোতে আমরা বেশ বেচাকেনা করেছিলাম। ঢাকা থেকে এ মেলার দূরত্ব অনেক বেশি থাকায় ঢাকার অভিজাত শ্রেণির লোকজন তেমন আসছেন না। তাই বেচাকেনা একেবারেই মন্দা।
বিআরবি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারের পিসিআরের দায়িত্ব থাকা জুয়েল বলেন, মেলায় আসা লোকজনের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডায়াবেটিক, ব্লাড প্রেসার, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়সহ জরুরি ডাক্তার দেখানো হয়। এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, ৪ জন টেকনেশিয়ান সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত আমরা ৬ হাজার মানুষকে সেবা প্রদান করেছি। মেলায় ঘুরতে আসা কাঞ্চন খালপাড় থেকে আসা রিয়াদ মাহমুদ বলেন, আমাদের এলাকায় মেলা হওয়ায় এলাকার সর্বস্তরের লোকজন এখানে সহজে যেতে পারছেন। এ মেলার কারণে আমাদের এলাকার পরিচিতিটাও সারা দেশে হচ্ছে। মাধবদী থেকে আসা খানে আলম বলেন, করোনার কারণে ভয়ে মেলায় আসিনি। তবে আজকে এসে দেখলাম এখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার যে কঠোরতা দেখলাম,  ভালো লাগলো। স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রশাসনের লোকজনের  তৎপরতা অনেক ভালো।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামাণিক বলেন, শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাণিজ্যমেলার বিভিন্ন স্টল ও প্রাঙ্গণে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২৫টি মামলা তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা হয়। রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম বলেন, মেলায় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা ও শৃঙ্খলার জন্য মেলার শুরুর দিন থেকে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি। মেলায় দর্শনার্থীরা যাতে আতঙ্কে না থাকেন সেদিকে খেয়াল রেখে কাজ করছি। মেলা শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক সেগুলো নগদ অর্থ জরিমানার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, করোনা থেকে রেহাই পেতে আমরা স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে বিশেষ নজর দিয়েছি। মেলার সময় বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো নির্দেশ এখনো পাইনি। আগামী ৩১শে জানুয়ারি এ মেলা শেষ হওয়া কথা। এ ব্যাপারে আমরা মৌখিকভাবে নির্দেশ পেয়েছি।
অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
তোফায়েল
৩০ জানুয়ারি ২০২২, রবিবার, ২:৪১

করোনা শুধু স্কুল - কলেজ - মাদ্রাসা - বিশ্ববিদ্যালয় দখল করছে, করোনা বুঝতে পারছে যদি বাংলার মানুষ আন্দোলন করবো!!! কুপোকাত???

অন্যান্য খবর