× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ২৬ নভেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
মানবজমিনকে তাইওয়ানিজ চিকিৎসক চাং ওয়েই

টানা ২০০ দিন কেউ আক্রান্ত হয়নি করোনায়, সাফল্যের নেপথ্যে...

অনলাইন

তারিক চয়ন | ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার, ৪:৫৬

ইউরোপের দেশ ফ্রান্স, জার্মানি যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে নতুন করে লকডাউন আরোপ করছে, যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে একদিনে ৮৮,০০০ এর-ও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড গড়েছে, ঠিক সে সময়ে এশিয়ার দেশ তাইওয়ানের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে, ২ কোটি ৩০ লক্ষ জনসংখ্যার তাইওয়ানে শেষ ২০০ দিনে কেউ স্থানীয়ভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় নি। সর্বশেষ স্থানীয় সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গিয়েছিল এপ্রিলের ১২ তারিখ। অথচ প্রায় একই জনসংখ্যার (২ কোটি ১০ লক্ষ) ফ্লোরিডায় (যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য) শুধু গত বুধবারেই ৪,১৮৮ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাইওয়ানে সর্বমোট ৫৫৩ জন করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছেন যার মধ্যে মাত্র ৫৫ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন, বাকিরা বাইরে থেকে আসা। মারা গেছেন মাত্র ৭ জন। যেখানে বাংলাদেশে মারা গেছেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ।

তাইওয়ানের এই সাফল্যের রহস্য কি? মানবজমিনের সাথে তাইওয়ানের একজন চিকিৎসক এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ চাং ওয়েই শা-র আলাপচারিতায় বেরিয়ে আসলো অজানা অনেক তথ্যঃ

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য তাইওয়ানকে কখনো কঠোর লকডাউন আরোপ করতে হয়নি। নাগরিক অধিকার খর্ব হয় এমন কোন বিধিও আরোপ করা হয়নি। কিন্তু তাইওয়ান সব সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নিয়েছিল।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ থেকেই দেশটি সরাসরি ফ্লাইটে তাইওয়ানে আসা উহানের (করোনার উৎপত্তিস্থল) যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা শুরু করে, যখন করোনাকে অনেকেই গুজব বলে উড়িয়ে দিচ্ছিলো। উহানে লকডাউন আরোপ করা হয় ২৩ জানুয়ারি।
আর ২১ জানুয়ারি তাইওয়ানে প্রথম করোনা রোগী শণাক্ত হন এবং তখন থেকেই দেশটি উহানের বাসিন্দাদের তাইওয়ানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। চীন, হংকং এবং ম্যাকাও থেকে আসা সব যাত্রীকেও স্ক্রিনিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্চের মধ্যেই তাইওয়ান কূটনীতিক, নিজেদের নাগরিক এবং বিশেষ এন্ট্রি ভিসা ছাড়া অন্য বিদেশীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

চাং ওয়েই শা বলছিলেন, আমরা তাইওয়ানিজরা সবসময় বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান করি। বিদেশী পর্যটকদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকায় কোন ছাড় দেয়া হয় না। অবশ্য তাইওয়ান দ্বিপরাষ্ট্র হওয়ায় সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপে সুবিধা পেয়েছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০০৩ সালের সার্স মহামারীর পর তা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাইওয়ান মহামারী মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। মাস্ক এবং পিপিই-র নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক ছিল। অধিক হারে টেস্ট করা এবং দ্রুত ও কার্যকর কন্টাক্ট ট্রেসিং নিশ্চিতে যথেষ্ট খরচও করা হয়েছে।

তাইওয়ান লকডাউন এবং গণহারে টেস্ট করার চেয়ে বরং 'কার্যকর কন্টাক্ট ট্রেসিং' 'আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের কড়া কোয়ারেন্টিন' এসবের উপর জোর দিয়েছিল। সাফল্যের রহস্যটা এখানেই।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
SJ
৩১ অক্টোবর ২০২০, শনিবার, ১:২৭

বস্তুত সৃষ্টি কর্তার রক্ষাই উপযুক্ত সংজ্ঞা । ঐ সবের উপকার মাত্র ১% । মৃত্যু যেমন কোনও বাধ মানে না অনুরুপ করোনাও প্রায় । নিজ চোখে দেখে এমনটাই সঠিক সংজ্ঞায় আনুমান করি । একই ভিলায় ৯ জনের বসবাস ,প্রতেকে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। ৮ জন ৩/৪/৫/৬/৭ দিনে সুস্থ । এক জনের জ্বর কমে বাড়ে প্রায় ১৮/২০ দিন । তিনি হসপিটালে গিয়ে করোনা সনাক্ত হয় । সুস্থ হতে প্রাত ৪৫ দিন । রুগীটি ১৮/২০ দিন খাবার খেয়েছেন ৩ জনের সংস্পর্শে বাকী ২ জন করোনা রুগী হননি ।

অন্যান্য খবর