× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ৯ মার্চ ২০২১, মঙ্গলবার

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব ঢাকার

দেশ বিদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার
৬ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার

অপেক্ষাকৃত মুক্ত কিন্তু রাষ্ট্রকেন্দ্রিক অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়ার সঙ্গে ফ্রি-ট্রেড এগ্রিমেন্ট-এফটিএ সই করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এ সংক্রান্ত ঢাকার প্রস্তাবে কুয়ালালামপুর ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। উঠতি শিল্পোন্নত বাজার অর্থনীতির দেশ বলে বিবেচিত মালয়েশিয়ার ‘ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক পরিকল্পনা’ দেশটির অভাবনীয় উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও সমালোচকরা বলছেন, ম্যাক্রো অর্থনীতির প্রভাব নাকি দিনে দিনে হ্রাস পাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় সদ্যনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র মন্ত্রী দাতু সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলীর সঙ্গে মঙ্গলবার সৌজন্য সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা করেন। হাইকমিশনার মিস্টার সারোয়ার এ বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রীকে এফটিএ নেগোসিয়েশন শুরু করার অনুরোধ জানান। জবাবে মালয়েশিয়ান শিল্পমন্ত্রী নেগোসিয়েশন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতকে আশ্বস্ত করেন। স্মরণ করা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ এশিয়া, ইউরোপ ও ল্যাটিন অমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ সইয়ের আলোচনা করে চলেছে।
কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখনো কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্যের ওই স্পেশালাইজ চুক্তি সই সম্ভব হয়নি। অপরদিকে রেকর্ড বলছে, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, তুরস্কসহ এ পর্যন্ত দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে মালয়েশিয়া ১৬টি এফটিও সই করেছে। যার মধ্যে ৭টি দ্বিপক্ষীয় এবং ৭টি রিজিওনাল মোট ১৪টি এরইমধ্যে কার্যকর হয়েছে। দু’টি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কুয়ালালামপুরের এফটিএ নেগোসিয়েশন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সাক্ষাৎ বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসায় মালয়েশিয়ার সিনিয়র মন্ত্রী
এদিকে মন্ত্রীর সঙ্গে হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বিষয়ে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ মিশনের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। সেখানে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসায় মালয়েশিয়ার সিনিয়র মন্ত্রী শিরোনামে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ই জানুয়ারি ২০২১ তারিখে মালয়েশিয়ায় সদ্যনিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র মন্ত্রী দাতু সেরি মোহাম্মদ আজমিন আলীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাতে মালয়েশিয়ার মন্ত্রী  অভিমত ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে এক উদীয়মান অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। সাক্ষাৎ- বৈঠকে মালয়েশিয়ান মন্ত্রী বাংলাদেশের সামপ্রতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরো বলেন যে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমে উভয় দেশ তাদের ব্যবসা ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। বিজ্ঞপ্তি মতে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে চলছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগ দ্রুত প্রসার লাভ করছে।
হাইকমিশনার মন্ত্রীকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, সিরামিকস, ফুট ওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালসের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। তিনি পণ্যমূল্য ও গুণগত মান বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে অধিক পণ্য আমদানির আহ্বান জানান। হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সরকার গৃহীত নানা কর্মসূচি বিশদভাবে তুলে ধরেন। তিনি সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত সমগ্র বাংলাদেশে ১০০ ইকোনমিক জোন স্থাপনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীকে অবহিত করেন।  তিনি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ভারত, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মালয়েশিয়াকেও বাংলাদেশে একটি বিশেষ ইকোনমিক জোন স্থাপনের অনুরোধ জানান। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার অব্যাহত সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাস্তগীর ও কাউন্সেলর (কমার্শিয়াল) মো. রাজিবুল আহসান এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।  এর আগে দিনের শুরুতে (পূর্বাহ্ণে) হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ আজহার মাজলিন-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ সংক্রান্ত চলমান রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম, কোভিডের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরত আসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর