× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতা
ঢাকা, ১ মার্চ ২০২১, সোমবার
ব্রাজিল ও মরক্কো পেয়েছে

এবার বাণিজ্যিকভাবে ভারতের টিকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

অনলাইন

কূটনৈতিক রিপোর্টার
(১ মাস আগে) জানুয়ারি ২৩, ২০২১, শনিবার, ১:৩৫ অপরাহ্ন

দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের বরাতে কলকাতার বহুল প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে করোনা টিকা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং মিয়ানমার। ইতিমধ্যে ব্রাজিল এবং মরক্কোতে বাণিজ্যিকভাবে টিকা রপ্তানি করেছে ভারত। বন্ধু এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোতে ভারতের টিকা রপ্তানির ওই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রাখছে জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রী বাস্তবকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের অংশীদার দেশগুলিতে রপ্তানির নীতি নেয়া হবে আগামী কয়েক সপ্তাহে।

‘গেটস-চুক্তিতেই সস্তা টিকা বিক্রি করতে বাধ্য সিরাম’ শিরোনামে আনন্দবাজারের নিজস্ব সংবাদদাতার রিপোর্টে বাংলাদেশসহ ভারতের বন্ধু ও প্রতিবেশি দেশগুলোতে টিকা পাঠানো সংক্রান্ত আপডেট জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লি ২৩শে জানুয়ারি ডেটলাইনে প্রকাশিত খবরের সূচনাতে বলা হয়, শুধু ভারতের মানুষ নয়, এ দেশে তৈরি কোভিডের টিকা রোগমুক্তিতে সাহায্য করবে সারা বিশ্বকেই। বিভিন্ন মঞ্চে এ কথা বার বার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশ মন্ত্রকও গত তিন দিন ধরে প্রতিবেশী দেশগুলিতে কোভিড প্রতিষেধক পাঠানো শুরু করেছে প্রথম দফার ‘সৌজন্য উপহার’ হিসেবে।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা কোণঠাসা থাকা মোদি সরকার, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে টিকা-কূটনীতির সাহায্য নিচ্ছে।
তবে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, সস্তায় ওই টিকা পাঠানোর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ধনকুবের বিল গেটস-এর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে হওয়া সিরামের চুক্তিতে।

রিপোর্টে সূত্রের উল্লেখ করে বলা হয়, ভারতসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে কম খরচে করোনার প্রতিষেধক জোগানোর নির্দিষ্ট বরাত দিয়ে সিরাম ইনস্টিটিউটকে ১৫ কোটি ডলার দিয়ে সাহায্য করেছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। এই চুক্তির ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে তিন ডলার বা ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে তাদের সংস্থায় উৎপাদিত প্রতিষেধক বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে সিরাম। এর ফলে অ্যাস্ট্রাজেনেকা সংস্থা ও নোভাভ্যাক্স সংস্থার প্রতিষেধকের দাম পড়বে ৩ ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২৫ টাকার কাছাকাছি।

সংস্থা জানিয়েছে, এই ১৫ কোটি মার্কিন ডলার বহুদেশীয় সংস্থা ‘গাভি’-কে দেবে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। ‘গাভি’-র কাছ থেকে সেই অর্থ পাবে সিরাম ইনস্টিটিউট। ‘গাভি’ হল প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে তৈরি সংস্থা, যারা বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলিতে প্রতিষেধক সহজলভ্য করে তুলতে অর্থ ও অন্য সাহায্য করে থাকে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ১০ কোটি প্রতিষেধক তৈরি করবে সিরাম। যার অর্ধেক তারা ভারতে ব্যবহার করতে পারবে। বাকি অর্ধেক অল্প দামে নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে সিরাম সংস্থা।

উল্লেখ্য, শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের মধ্যেই প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি প্রতিষেধক তৈরি করে সিরাম ইনস্টিটিউট। এই সংস্থা প্রতি বছর গড়ে ১৩০ কোটি প্রতিষেধকের ডোজ তৈরি করে। সে কারণেই বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন সিরাম ইনস্টিটিউটকেই বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ, আজও সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, কোন দেশকে কত ডোজ উপহার দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, বিদেশি রাষ্ট্রগুলিতে প্রতিষেধক পাঠানোর যে আসলে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে, যা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক দিকটিও রয়েছে।

এদিকে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখপাত্র অনুরাগ শ্রী বাস্তব জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ২০ লাখ এবং নেপালকে ১০ লাখ ডোজ প্রতিষেধক উপহার দেয়ার পর মায়ানমার, মরিশাস এবং সেশেলসকে পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে ১৫ লাখ, ১ লাখ এবং ৫০ হাজার ডোজ। এরপরে শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানেও সাহায্য হিসেবে পাঠানো হবে প্রতিষেধক। অনুরাগের কথায়, ‘চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে এরপরে সৌদি আরব, বাংলাদেশ, মায়ানমারে প্রতিষেধক যাবে। ইতিমধ্যেই ব্রাজিল এবং মরক্কোতে বাণিজ্যিক রপ্তানি করা হয়ে গেছে।’ দেশের দরিদ্র মানুষকে কীভাবে প্রতিষেধক দেয়া হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমতাবস্থায় ‘বিশ্ব মানবতার’ জন্য তা পাঠানোয় স্বর তুলছেন বিরোধীরা। এ প্রসঙ্গে অনুরাগ বলেন, ‘ঘরোয়া চাহিদা এবং ধাপে ধাপে প্রতিষেধক দেয়ার পরিকল্পনাকে মাথায় রেখে তবেই অংশীদার দেশগুলিতে রপ্তানির নীতি নেয়া হবে আগামী কয়েক সপ্তাহে। এটা নিশ্চিত করা হবে যাতে দেশের মানুষের জন্য যথেষ্ট প্রতিষেধক মজুদ থাকে।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর