× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাতকাররকমারিপ্রবাসীদের কথামত-মতান্তরফেসবুক ডায়েরিবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা মন ভালো করা খবরকলকাতা কথকতাখোশ আমদেদ মাহে রমজানস্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী
ঢাকা, ৯ মে ২০২১, রবিবার, ২৬ রমজান ১৪৪২ হিঃ

মৃত্যুর স্কোর বোর্ড, ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি

অনলাইন

সাজেদুল হক
(৩ সপ্তাহ আগে) এপ্রিল ১৮, ২০২১, রবিবার, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

মায়ের জন্য একটি আইসিইউ বেড জোগাড়ে ছেলের আকুতি। যদি নিজের জীবনের বিনিময়েও মাকে বাঁচানো যায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাকে বাঁচানো যায়নি। আইসিইউ বেডের জন্য অপেক্ষায় বহু মানুষ। কেউ মারা গেলে অথবা সুস্থ হয়ে রিলিজ পেলে একটি সিট মিলছে। কি নিষ্ঠুর অপেক্ষা! অক্সিজেন সিলিন্ডার নিজের শরীরের বেঁধে মোটরসাইকেলে করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন ছেলে। বরিশালের এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আহা কি সময়!

শুরুটা এক বছরের বেশি সময় আগে।
অদৃশ্য এক ভাইরাস। পুরো পৃথিবীটাই ওলটপালট করে দিয়েছে। মৃত্যুর স্কোর বোর্ড। প্রতিদিন এই সংখ্যা বড় হচ্ছে। বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। শনাক্ত হয়েছেন ১৪ কোটির বেশি রোগী। বাংলাদেশেও মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি কেবল অফিসিয়াল সংখ্যা মাত্র। বাস্তবে এ সংখ্যা আরো বেশি। গত দুদিনে প্রতিদিনই একশ’র বেশি মানুষ মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরো বাড়বে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, করোনার তীব্রতা বেড়েছে। আক্রান্ত রোগীরা খুব দ্রুত মৃত্যুবরণ করছে। ২৮শে জানুয়ারি থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত দেখা যায়, রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার ছিল ৪৪%। মৃতদের মধ্যে ৫২% উপসর্গ শুরুর ৫ দিনের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো। মৃত রোগীদের মধ্যে ৪৮% হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ৫ দিনের মধ্যে মারা গেছেন। ১৬% মৃত্যুবরণ করেন ভর্তির ৫-১০ দিনের মধ্যে। গত বছরের চেয়ে নারীরা বেশি মৃত্যুবরণ করছে। এছাড়া এই সময়ে দেশে মানসিক সমস্যাও বেড়ে যাচ্ছে।

টিকা নিয়ে আশা জেগেছিল একসময়। কিন্তু এখন তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি আর স্বার্থপর পৃথিবীতে প্রথম টিকার অগ্রাধিকার পাচ্ছে উন্নত দুনিয়ার মানুষেরাই। ধনী ও প্রভাবশালী দেশগুলোর জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ টিকা নিতে পারলেও অনেক গরিব দেশ এখনো টিকা পায়ইনি। বাংলাদেশ টিকা নিয়ে আশা জাগানিয়া শুরু করলেও এখন তা হোঁচট খেয়েছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট প্রতিশ্রুত টিকা সরবরাহ করছে না। মূলত ভারতীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণেই সেরাম বিভিন্ন দেশকে সময়মতো টিকা পৌঁছাতে পারছে না। তবে টিকা দিয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না করোনার ব্যাপারে। কারণ টিকা কতদিন কাজ করবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তারচেয়ে বড় ব্যাপার চরিত্র বদল করা করোনার ক্ষেত্রে টিকা কতটা কাজ করবে তাও বুঝা যাচ্ছে না।
এই অনিশ্চিত অবস্থায় দেশে চলছে লকডাউন। জীবনের পাশাপাশি বহ মানুষ লড়ছে জীবিকার জন্য। অসম সমাজে বেঁচে থাকাই যেন দায়। আবার স্বার্থপরতা আর যেকারণেই হোক না কেন একজনের দুর্ভোগ এখন অন্যকে অতোটা স্পর্শ করে না। স্বাস্থ্যকর্মী ইশান জাহান গণমাধ্যমকে বলছিলেন, আসলে এটা খুবই দুঃখজনক যে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না যে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক। যখন একজন রোগী নিয়ে হাসপাতালে যান তখন সেই ব্যক্তিটাই বুঝেন যে, হাসপাতালের একটা সিট পাওয়ার জন্য, একটা অক্সিজেনের সিলিন্ডারের জন্য, একটা আইসিইউ বেডের জন্য কী পরিমাণ হাহাকার চলছে।

এই হাহাকার ও অসহায় সময়ে আসলে বাঁচার চেষ্টা ছাড়া আর কিইবা করার আছে। চারদিকে ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
ছায়ানটি
১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ৩:০৬

আমরা ধরাকে সরা জ্ঞান করব, রাস্ট্রিয় ভাবে জুলুমবাজির ফানুষ উড়াবো, স ত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানাবো, যা ইচছা তাই করব আবার মহামারি থেকে বেঁচেও থাকব। যাহ করোনা যাহ, আমাদেরকে মারতে আসছিস কেন। আমাদেরকে আমাদের মত গান গাইতে দে। আমরা মরব না, আমরা অমর। আমরা চিরকাল বেঁচে থেকে জুলুমবাজির নৃত্যকলা করতে থাকব।

Md. Jakir Hossain
১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ১:৫৬

Wright Wright

নাসির
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১১:৫৪

হে আল্লাহ, আপনি করোনা'র মাধ্যমে সকল ঘুসখোর, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, জালিম, অন্যের হক নষ্টকারীদের চরম শিক্ষা দিয়ে হেদায়েত দান করুন।

ম নাছিরউদ্দীন শাহ
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১১:৩৫

গতকালের সরকারের আইন মন্ত্রী মহোদয় মসজিদে মসজিদে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছিলেন। আজ শিরোনাম ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি। ভয়ংকর কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্ব ইতিমধ্যে সমাজে রাষ্ট্রে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মৃত্যুতে শীর্ষ স্থানীয়দের মাঝে কি শিক্ষা হলো ? যাদের শিক্ষা হলেই সমাজে রাষ্ট্রে বিশ্বের দেশে দেশে শান্তি শৃংখলা ন‍্যায় পরায়নতা শান্তি প্রতিষ্টা হবে। জুলুম অত‍্যাচারের অপ কর্মের কারণে বেহায়াপনা দূন্নীতির কারণে ব‍্যাবিচার অত‍্যাচারের কারণে কিয়ামতের ভয়াবহ পরিস্থিতির মত ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি জমিনজুড়ে শুরু হয়েছে। ক্ষনস্থায়ী ক্ষুদ্র জীবন মৃত্যু অবধারিত সত্য জেনেও। প্রতিটি কর্মের হিসাব দিতে হবে জেনেও। মৃত্যু পরোয়ানা বাতাসে যে কোন মুহুর্তে আক্রান্ত মৃত্যু হবে জেনেও। গা শিউরে উটা শিরোনাম ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি শিরোনাম পড়ে আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করুন তোওবা করুন। মৃত্যুর ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে ক্ষমা চাওয়ায় সুযোগ থাকবেনা। আসুন সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর দরবার ক্ষমা প্রার্থনা করি। মুক্তির পথ আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ্ আমাদের বুঝার জানার মানার তৌফিক দিন। আমিন আমিন।

Md. Johirul Islam
১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ১২:৩২

মৃত্যু আপনাদের মত সাংবাদিকদের নিকট খেলা তা্ই না আপনারা মৃত্যুকে রানের সাথে তুলনা করেন

নেছার আহমেদ
১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ১২:২০

অক্সিজেনের অভাব ? আই,সি,ইউ সল্পতা ? হাঁসপাতালে নতুন রোগী ধারন করার অবস্থায় নাই ? কিন্তু দেশতো কানাডা হইয়া গেছে !! দেশ মধ্যম আয়ের দেশ তাহলে এতো আয় গেল কই ?? এতো বড়বড় চাপাবাজি আর ধোকাবাজি জনগনের সাথে অথচ আশ্চর্য্য আমরা গাধা মার্কা জনগন এগুলো সবই মেনে নিয়েছি। এদের অপকর্ম এখন আর গোপনে হয়না এরা স্বমহিমায় প্রকাশ্যে নিজেদের অপকর্ম আর দুর্নীতি করে এই দেশটাকে নরকের রুপ দিয়েছে। আর আমরা সবাই এখন নরকবাসী। এখন কেবল স্রোস্টার পক্ষ থেকে যদি কোন ফয়সালা আসে তাহলেই মুক্তি তাছাড়া এই নরক যন্ত্রণা থেকে আশু মুক্তি নেই। তবে এটাও সত্য কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয় হোক সেটা ভাল বা মন্দ। হিটলার দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, আমাদের রাসুলও(সঃ) দুমিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমিও দুনিয়া থেকে বিদায় নেব আর এই সরকারেরও নিচ থেকে সর্বচ্চ পর্যায়ের সবাই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে। তবে অবশ্যই সবার বিদার নেয়ার স্থান, কাল ও গুরুত্ব এক নয়। কেও বিদায় নিয়েও বেচে থাকে মানুষে হৃদয়ে আবার কারো বিদায়ের পর তার নামে মানুষ থুতু দেয়। পার্থক্য এখানেই .......................................

Kazi
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১১:১৮

আল্লাহ্ ছাড়া রক্ষা কারি নাই। কিন্তু তিনি তাগিদ দিয়েছেন সব রকম চেষ্টা করতে। সেই চেষ্টাকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব তাঁর। হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে, শুধু তার উপর ভরসা করতে ও নিষেধ করেছেন। যেমন মাস্ক না পড়ে বলা আল্লাহ্ বাঁচাবেন। হাত পরিষ্কার না করে বলা। ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবস্থা না করা বা প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে না যাওয়া বা ঔষধ সেবন না করে ভরসা করা।ঔষধ আল্লাহ্'র নিয়ামত থেকেই তৈরি। রোগ যেমন দিয়েছেন ঔষধ ও তিনি পাঠিয়েছেন। আল্লাহ্ সবাই কে রক্ষা করুন।

Faruque Ahmed
১৮ এপ্রিল ২০২১, রবিবার, ১২:১২

তবুও তোমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করো না। তিনি আমাদের কাছে কেবল একটি ছোট শাস্তি প্রেরণ করেছিলেন, পুরো পৃথিবী অজানা / নতুন হয়ে ওঠে। ওহে মানব, অন্যের ক্ষতি করো না। অন্যের প্রতি কোন অবিচার করবেন না।আপনার জন্য, আমার জন্য এবং সকলের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন....আর কতদিন এই পৃথিবীতে থাকবে? কেন আপনি অর্থের জন্য / পাওয়ার জন্য ঝগড়া করেন।

Saiful Islam
১৭ এপ্রিল ২০২১, শনিবার, ১০:৪৭

আল্লাহ ছাড়া আর কোন উপায় নেই আমাদের এখন ও সময় আছে ক্ষমা চাওয়ার দুনিয়ার কিছু পারবে না আমাদের রক্ষা করতে আল্লাহ ছাড়া

অন্যান্য খবর