অনলাইন
ট্রাম্পের রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ, বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ
সিদ্দিকুর রহমান সুমন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
(১ দিন আগে) ৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৮:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক সংবাদ শুনালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পণ্য আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন তিনি । এতদিন যা ছিল ১৫ শতাংশ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ঘোষণার দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি ।
নতুন করে উচ্চমাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কারণ বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) এর একটি প্রধান রপ্তানিকারক। বাংলাদেশ এই বাজারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে, যার বার্ষিক রপ্তানি মূল্য প্রায় ৭-১০ বিলিয়ন ডলার। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিলো প্রায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারের।

সংবাদ সম্মেলনে ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ তালিকা প্রকাশ করেন । যেখানে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। আবার বিভিন্ন দেশও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্রপাত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাঠকের মতামত
বাংলাদেশ ঘুমন্ত ছিলো মনে হচ্ছে -ভারত যেখানে আমেরিকার শুল্ক নীতির ভয়ে গত দু মাসে অনেক আমেরিকান পন্যে শুল্ক হার কমিয়ে দিয়ে তাদের উপর শুল্ক চাপ ২৬% শতাংশ নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে সেখানে অপরয়জনিয়ো ভাবে আমাদের টেরিফ কমিশন এবং বানিজ্য মন্ত্রনালয় তাদের পুরনো নীতি বদল না করে কোনো কোনো অপ্রয়জনিয়ো ক্ষেত্রে যেমন হুইস্কি মারসিডিজ গাড়িতে ৬০০% থেকে ৪০০% টেরিফ টেকস ধরে রেখেছেন অথচ এগুলো খবু কমই আমদানি হয় কিন্ত ট্রাম্পের কাগজপত্রে এগুলিই আমাদের বিরুদ্ধে গেছে ।অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের উচিত আমেরিকার পন্যে ১০-১৫% টেরিফ নির্ধারণ করে আমাদের পোষাক শিল্পের ধস আটকানোর ব্যবস্থা করা।এনবিআরের এবং বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অকর্মণ্য কর্মকর্তাদের নির্বুদ্ধিতায় এবং আন্তর্জাতিক ভাইব বুঝার অক্ষমতার আজ বাংলাদেশ চরম রপ্তানি সংকটে পড়লো।আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমেরিকার পন্যের উপর ট্যাক্স টেরিফ কমিয়ে দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
Trump's calculation for tariffs is based on trade balance with other countries. Trump’s approach is flawed because nations around the world export goods to the USA, and the USA exports financial and technology services. But it omitted the global dominance of Apple, Google, Meta, Microsoft and Amazon from the calculations. The market capitalisation of these businesses is equal to 40% of US GDP and 25% of stock market value and approximately 50% of their revenue is from outside the USA.
Other European countries as well as China are about to slap the US with counter tariffs. This will cripple the US economy that is already crumbling. Bangladesh must play safe and not come to adverse attention of the US. But Trump's actions will unravel the US. Good news, for Palestinians.
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে বাংলাদেশে তাদের পন্যের শুল্ক ৭৪%। এটা কি সব পন্যের ক্ষেত্রেই ৭৪% নাকি গড় শুল্ক ৭৪% ? ট্রাম্প একজন স্মার্ট প্রেসিডেন্ট। তিনি বল আমাদের কোর্টে ঠেলে দিয়েছেন । এখন আমাদেরই বের করতে হবে তার দাবি সঠিক কি না। যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে জরুরী ভিত্তিতে তাদের পন্যের শুল্ক কমিয়ে আমাদের পন্যের শুল্ক পূর্বের পর্যায়ে যেন যেতে পারে সে উদ্যোগ নিতে হবে।
If Bangladesh lowers its tariff on USA goods, Donald Trump will lower it for us accordingly. For example, if Bangladesh lower the current rate from 74% to 20%, the USA will lower ours from 37% to 10%, a simple math.
Bangladesh has charging illogocally 74% from US. It should not exceed 30%. I think trump done the right things
বাংলাদেশ আমেরিকার পণ্যের উপর আর কি শুল্ক বসাবে ? তারচেয়ে আমেরিকান দ্রব্য কেনাই ৫০% কমিয়ে দেওয়া ভালো।
১০% এর উপরে সবার নিজ নিজ শুল্কের অর্ধেক শুল্ক বসিয়েছে। আমি প্রেসিডেন্ট হলেও হয়তো এটা করতাম!! বাস্তবতা, এখানে রাজনৈতিক গন্ধ খুজিয়েন না কেউ ।
বাংলাদেশ ৭৪% ট্যাক্স বসালে যুক্তরাষ্ট্র ৩৭% তো বসাবেই।