ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

অনলাইন

সহযোগীদের খবর

সর্বত্র ভোটের আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক

(১ দিন আগে) ৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ১:৪২ পূর্বাহ্ন

mzamin

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘সর্বত্র ভোটের আলোচনা’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সারা দেশে চলছে ভোটের আলোচনা। ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনে রাজনৈতিক নেতারা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে অবস্থান করার কারণে এ আলোচনা এখন তুঙ্গে। রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান ও ঈদ উদ্‌যাপন উপলক্ষ করে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা অংশ নিয়েছেন নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে। তাঁদের এ আনুষ্ঠানিক গণসংযোগের সঙ্গে ছিল সাধারণের মধ্যে ভোট আসলে কবে হবে তা নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনাকল্পনা।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টারে ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শহর-বন্দর, গ্রামগঞ্জ, হাটবাজার নির্বিশেষে সর্বত্র চায়ের দোকানে, বন্ধু আড্ডায় ঝড় উঠেছিল নির্বাচনি আলোচনার।

এবারের ঈদে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। তাঁরা নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগসহ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে।

স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি-এ বছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’ তাঁর এ বক্তব্যের বিচার-বিশ্লেষণ ছিল আলোচনার মূল বিষয়।

গতকাল ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার। এটা যদি কেউ বলে থাকে, তাহলে এটা ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা বলেছি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ন্যূনতম যে সংস্কার প্রয়োজন, সেটা করতে হবে। কারণ, এ সংস্কারের প্রথম দাবি ছিল বিএনপির।’

এবার ঈদের ছুটিতে বিভাগীয় শহর থেকে জেলা-উপজেলায় বন্ধুবান্ধব, পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজনের দেখাসাক্ষাতের সময় গল্পগুজব-আলোচনায় ছিল সংসদ নির্বাচনে ভোটের তারিখ কবে? দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পেয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জানতে চেয়েছেন কখন যাত্রা করবে নির্বাচনি ট্রেন? নেতারাও কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হবে। কেউ কেউ বলছেন, অপেক্ষা করতে হবে। আর কিছুদিন গেলেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। নেতারা কর্মীদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি ভোটের জন্য ঘরে ঘরে গণসংযোগ করার নিদের্শনাও দিয়েছেন। মানুষের মন জয় করার কর্মসূচি নিতেও বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় থাকি। নেতা-কর্মীদের মনে প্রশ্ন ভোট কবে? তাঁরা আমাদের কাছে সঠিক সময়টা জানতে চান। আমরা বলি ডিসেম্বরে। কিন্তু যাঁরা সরকারে আছেন তাঁরা বলছেন ডিসেম্বরে না হলে আগামী জুনে। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ হতাশ। বিগত ১৫ বছরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন ভোট দেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে আছে। চায়ের স্টল থেকে শুরু করে সর্বত্র একটাই আলোচনা-ভোট কবে? আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোট দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণ করবেন।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রায় দেড় দশক মানুষ ভোট প্রদানের কোনো সুযোগ পায়নি। মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। সে ভোটটা কবে হচ্ছে, দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে জানতে চাচ্ছে। বিশেষ করে এবারের ঈদে সবার মুখে মুখে প্রশ্নটি ছিল। সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদ করেছেন নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার নিজ এলাকায় দীর্ঘ ১০ বছর পর ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। চট্টগ্রামে ঈদ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীতে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নিতে দেখা গেছে নেতাদের।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ঈদ করেছেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, লায়ন আসলাম চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর হেলাল উদ্দিন। রাজশাহীতে ঈদ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু। নাটোরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বরিশালের গৌরনদীতে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ জামাল হোসেনের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার নিজ এলাকা মৌলভীবাজারে দলীয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কুমিল্লা ও নিজ জন্মস্থান লক্ষ্মীপুরে ঈদে বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজধানীতে ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম সোমবার দুপুরে ঢাকার জুরাইন কবরস্থানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম নিজ জেলা পঞ্চগড়ে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লায় ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সীমানা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি’। খবরে বলা হয়, আগামী ডিসেম্বরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম প্রায় শেষ। অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা করতে আগস্টের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখতে চায় কমিশন। আরও কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন। তবে আইন সংশোধন না হওয়ায় ইসি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুরু করতে পারছে না। এ জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কিছুদিন আগেই বলেছেন, সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য তাঁদের কাছে অনেক আবেদন আসছে। তিনি তখন বলেন, আইন সংশোধন না করলে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা যাবে না।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য ইসিতে আবেদন আসতে শুরু করে। বেশির ভাগ আবেদন করা হয়েছে ২০০১ সালের সীমায় ফেরানোর জন্য। কারণ, ওই বছর কমবেশি ১৫০ আসনের সীমানা কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। আসন বিলুপ্তির ঘটনাও ঘটেছে তখন। ঢাকা-১ আসন থেকে দোহার ও নবাবগঞ্জ সংসদীয় আসন (ঢাকা-১ ও ২) পুনরুদ্ধার কমিটির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনেও দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে ‘সুবিধা দিতে’ আসন দুটিকে এক করে ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দোহার উপজেলা এবং ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ আসন করা হয়। এতে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আসন পুনরুদ্ধার কমিটির আবেদনে আগের মতো দোহার উপজেলা নিয়ে ঢাকা-১ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২ আসন করার দাবি জানানো হয়।

ফরিদপুরের সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে ফরিদপুর-৪ পুরোনো সংসদীয় আসনটির সীমানা পুনর্বহালের দাবিতেও ইসিতে আবেদন করা হয়েছে। ‘সদরপুর-চরভদ্রাসন সংসদীয় আসন (ফরিদপুর-৪) পুনরুদ্ধার কমিটি’ এই আবেদন করে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত (শুধু ১৯৭৯ সাল ছাড়া) প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসন ছিল সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে। তবে ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা উপেক্ষা করে শুধু জনসংখ্যাকে গুরুত্ব দিয়ে এর সঙ্গে ভাঙ্গা উপজেলা যুক্ত করা হয়।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘৬০টি সংসদীয় আসন থেকে ৪০০-এর মতো আবেদন এসেছে। আমরা এগুলো পর্যালোচনা করছি।’

অন্য যেসব সংসদীয় আসন থেকে রদবদলের আবেদন এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—ঢাকা-১, ২, ৭, ১২, ১৬ ও ১৯; নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩, ৪ ও ৫; গাজীপুর-৩; মানিকগঞ্জ-২ ও ৩; কিশোরগঞ্জ-২; সিরাজগঞ্জ-২ ও ৫; গাইবান্ধা-৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ৪; ফেনী-২ ও ৩; নোয়াখালী-১ ও ২; কুমিল্লা-১, ২, ৬, ৯ ও ১০; চট্টগ্রাম-৩, ৪, ৭ ও ৮; সিলেট-৩; চাঁদপুর-১, ২, ৩, ৪ ও ৫; ফরিদপুর-৪; রাজবাড়ী-১, ২ ও ৩; শরীয়তপুর-২; যশোর-২; ঝালকাঠি-২; বরগুনা-১ ও ২; পিরোজপুর-১ ও ২ ইত্যাদি।

সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর করতে সংশোধিত খসড়া আইন তৈরি করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণে ইসির ক্ষমতা ‘সীমিত হয়ে যাওয়ায়’ ২০২১ সালে পাস হওয়া আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় কমিশন। গত ২৭ জানুয়ারি ইসির আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

প্রথম আলো

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘ইউনূস-মোদি বৈঠক কাল ব্যাংককে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকটি হচ্ছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আগামীকাল শুক্রবার দুপুরে দুই প্রতিবেশী দেশের নেতাদের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঢাকা ও দিল্লির কর্মকর্তারা।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটাই হবে ইউনূস–মোদির প্রথম সাক্ষাৎ। বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংককে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো দুই নেতার বৈঠকের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। জানতে চাইলে ব্যাংকক থেকে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক যে হতে চলেছে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে আশাবাদী।’

যুগান্তর

‘ঈদের মাঠে ভোটের হাওয়া’-এটি দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদের মাঠে বইছে ভোটের হাওয়া। এবার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। এতে ঈদের পাশাপাশি ভোটের আমেজও সৃষ্টি হয়েছে। এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রত্যেকেই আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের কাছে সহযোগিতা চাইছেন। ঈদ পুনর্মিলনী, মতবিনিময় সভা এবং নানা ধরনের সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা কৌশলে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। এতে ঈদকেন্দ্রিক ভোটের রাজনীতি জমে উঠেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া গেলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মুক্ত পরিবেশে সাধারণ মানুষসহ কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে নিজ নির্বাচনি এলাকায় ছুটে গেছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে এলাকায় ব্যাপক প্রচার ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট নির্বাচনি রোডম্যাপ দাবির পাশাপাশি ভোটের পক্ষে গণসংযোগে নামাটাই বিএনপি নেতাদের লক্ষ্য। দলের সিংহভাগ নেতাই ঈদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনি এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে নির্যাতিত ও গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের পাশেও দাঁড়াচ্ছেন।

অন্যদিকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও তৃণমূল নেতাকর্মীর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে এলাকায় গেছেন। লম্বা ছুটি কাজে লাগিয়ে কর্মী-সমর্থকদের আরও চাঙা করতে চাচ্ছে দলটি। বসে নেই তরুণদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতারাও। দলটির অধিকাংশ নেতা এবার নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপন করেছেন। এছাড়া তিনটি দলের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়েছেন।

কালের কণ্ঠ

দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘চিকিৎসায় বিদেশে যাচ্ছে বিপুল অর্থ’। খবরে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারত ভিসা সীমিত করায় দেশের রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমেছে। এতে অনেক রোগী এখন দেশেই চিকিৎসা নিচ্ছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই সুযোগে দেশের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসাসেবায় আস্থার সংকট কাটানোর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি ও চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ালে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বেসরকারি হিসাব মতে, এই খরচ আরো অনেক বেশি।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার ন্যূনতমও ব্যাংকের মাধ্যমে যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাংকের যে অর্থ যাচ্ছে, তা প্রকৃত চিত্রের নগণ্য পরিমাণ।

সমকাল

ঈদেও নিষ্ক্রিয় সেই সব ‘কিংস পার্টি’-এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে 'কিংস পার্টি' হিসেবে পরিচিতি পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিষ্ক্রিয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকে এসব দলের কোনো তৎপরতাই চোখে পড়ছে না। রমজান ও ঈদেও অধিকাংশ দলের তৎপরতা ছিল না। কোনো কোনো দল অবশ্য বক্তৃতা-বিবৃতি আর রাজপথে ছিটেফোঁটা কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা 'কিংস পার্টি'র মূল তিনটি দল হচ্ছে তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে নিবন্ধন পায় এই তিনটি রাজনৈতিক দল। সে সময় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনে আসন সমঝোতার জন্য দেনদরবারও করে তারা। যদিও কোনো দলকে আসন ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক পালাবদলের পর কোনো কোনো মহল থেকে আওয়ামী লীগের 'সহযোগী' আখ্যা দেওয়ায় বেশ বেকায়দায় আছেন দল তিনটির নেতারা। আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেওয়া এসব দলের নেতারা অবশ্য নিজেদের 'কিংস পার্টি' মানতে নারাজ।

তাদের দাবি, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে গিয়েছিলেন তারা। তবে তারা কখনোই আওয়ামী লীগের 'সহযোগী' হিসেবে কাজ করেননি। বরং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষেই ছিলেন। নেতারা আরও বলেন, দ্রুতই নিজ নিজ দলকে সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেবেন। সময়-সুযোগমতো মাঠেও নামবেন। সেই সঙ্গে জনগণের মধ্যে দলের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে তারা ৩০০ আসনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

ইত্তেফাক

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘প্রাথমিক শিক্ষায় মানের অবনতি এক যুগেও ঠেকানো যায়নি’। খবরে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি। এজন্য উন্নত দেশগুলোয় প্রাথমিক স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশেও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের গত এক যুগে দুইটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, যাতে ব্যয় হয় ৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু এর সুফল আসেনি। ঠেকানো যায়নি প্রাথমিক শিক্ষার মানের অবনতি। শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট-২০২২’ অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণির ৫১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলায় দুর্বল। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ৬১ শতাংশ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতের দক্ষতায় দুর্বল। তাদের গণিতের দক্ষতা তৃতীয় শ্রেণির উপযোগী নয়।

শিক্ষাবিদরা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের পদ্ধতি ও পরীক্ষা নিয়ে অনেক শোরগোল তোলা হলেও শিক্ষার মানের অবনতি ঠেকানো যায়নি। অবকাঠামো নির্মাণ আর শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা কতটা শিখতে পারছে, সে বিষয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থী বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। প্রাথমিক স্তরে হাজার হাজার শিক্ষকের পদ খালি রেখে মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করা যায় না। এছাড়া শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যার অনুপাত কম, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের অভাব, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং অপর্যাপ্ত তহবিল প্রাথমিক শিক্ষার মান ক্রমবনতি জন্য দায়ী। সরকারের নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার অভিভাবকরাও শিক্ষার দুরবস্থার কথা জানেন; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না।

‘প্রাথমিক শিক্ষায় সব শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষার ব্যবস্থা করার লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১১ সালে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৩) শুরু করে সরকার। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হওয়া এ প্রকল্পে ব্যয় হয় ১৮ হাজার ১৫৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সুশাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন ও শেখানোর গুণমানের উন্নয়ন, সর্বজনীনভাবে বিস্তৃত একটি সুষ্ঠু সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সরকার ২০১৮ সালে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-৪) কার্যক্রম শুরু করে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে সম্পন্ন হওয়া এ প্রকল্পে ১৫ হাজার ৩১৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বিপুল ব্যয়ের এই দুইটি প্রকল্প শেষে শিক্ষার্থীদের দক্ষতামানেরও উন্নতি হওয়ার কথা ছিল।

বণিক বার্তা

‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও জাপানের বিপুল বিনিয়োগ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভারতের সেভেন সিস্টার্স বলে খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চল নানা কারণে আলোচনায় আসে। এ অঞ্চল নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে বিভিন্ন সময়। নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে ভারতের রয়েছে নিজস্ব নীতি ও কৌশল। আবার চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ধরে বাংলাদেশের রয়েছে নিজস্ব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনা।

এসব ভৌগোলিক, রাষ্ট্রীয়, নীতিগত ভিন্নতা থাকলেও জাপান এ দুই অঞ্চলকে একটি অভিন্ন সমন্বিত উন্নয়ন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেছে। এ কৌশল বাস্তবায়নে গত এক দশকে এ দুই অঞ্চল ঘিরে জাপান বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এসব বিনিয়োগ প্রকল্প পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাই এসব প্রকল্পের লক্ষ্য।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম-বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কানেক্টিভিটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব জাপান অনেক আগেই অনুধাবন করতে পেরেছিল। ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মাথায় রেখে জাপান এ অঞ্চলে একটা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা দেখেছে। এক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা ছিল। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনাগুলো ভারত ভালোভাবে দেখেনি। ফলে ভারত বাংলাদেশকে এড়িয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতকে আসিয়ানের সঙ্গে সংযুক্ত করে উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছে।

বাংলাদেশকে এড়িয়ে সরাসরি উত্তর-পূর্ব ভারতে বিনিয়োগের বিষয়ে জাপানকে প্রভাবিত করেছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন করিডোর বিবেচনা করে জাপান এক দশক ধরে বিনিয়োগ পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছে। তাদের প্রক্ষেপণে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় বিবেচনায় নিয়ে মাতারবাড়ীর মতো প্রকল্পগুলোয় জাপান সম্পৃক্ত হয়েছে।

ডেইলি স্টার

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম ‘Next budget aims for 6% GDP growth’ অর্থাৎ ‘আগামী বাজেটে ৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ’

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী অর্থবছরের বাজেটের লক্ষ্য ৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। পরবর্তী বাজেটের আকার প্রায় আট লাখ কোটি টাকা হতে পারে, যা বর্তমান বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি।

উন্নয়ন বাজেট প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার থেকে দুই লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে। বাজেটের চূড়ান্ত সংখ্যা ৬ই এপ্রিল ঢাকায় আসা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মিশনের সঙ্গে আলোচনার পর নির্ধারিত হবে।

বাজেটের আয় লক্ষ্য পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এ আয়ের লক্ষ্য পূরণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাঁচ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

উন্নয়ন বাজেট ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার চেয়ে সামান্য বেশি।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঈদের অর্থনীতিতে বৈষম্য’। খবরে বলা হয়, ঈদুল ফিতরের উৎসবকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধি পায় অর্থনৈতিক কর্মকা-। কিন্তু ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতির ব্যাপ্তি কতটুকু সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটার ধরনে বদল এসেছে। দেশের ভেতরে বেড়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য, সরকারি হিসাবই সে কথা বলছে। বৈষম্যের আঁচ পাওয়া গেছে ঈদের কেনাকাটাতেও। যাদের কাছে টাকার প্রবাহ বেড়েছে, তাদের একটি অংশের মধ্যে দান-খয়রাতের প্রবণতাও বেড়েছে। যাকাতকেন্দ্রিক অর্থনীতির আকারও বড় হচ্ছে।

এবারের ঈদে বেশকিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা দেখা গেছে। এবারই প্রথম ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংক খোলাবাজারে নতুন টাকা না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সাধারণত ঈদকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ে। এ টাকা দেশের ভোগকেন্দ্রিক অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবার সেটা হয়নি। এর প্রভাব পড়েছে ঈদকেন্দ্রিক সামগ্রিক লেনদেনেও। এবার অন্যবারের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন কম হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।

নতুন টাকা না ছাড়ার পেছনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি উদ্দেশ্য ছিল বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছরের ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে বাড়তি অর্থ লেনদেন হয়েছিল ২ লাখ ৫০ থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এবার তা ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।’ লেনদেন কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অন্যবার যে শ্রেণি অনেক বেশি কেনাকাটা করত তারা এবার আত্মগোপনে আছে। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক লেনদেনে। তবে এবার দেশি পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। অন্য বছরে ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পোশাক ও প্রসাধনী পণ্য আমদানি হতো। এবার হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার। ফলে বেড়েছে দেশি পণ্যের বিক্রি। দোকান মালিকরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল কোন সংস্কার চায় সে টি পত্রিকায় লেখা হউক .

Ekramul kobir
৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ১১:২২ পূর্বাহ্ন

অনলাইন থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

অনলাইন সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status