ঢাকা, ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৪ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

প্রথম পাতা

১৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে নিয়োগ ২৩ হাজার

শরিফ রুবেল
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবারmzamin

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শুধুমাত্র পুলিশেই নিয়োগ পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৩ জন। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশই এএসপি, এসআই, সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদমর্যাদার পুলিশ সদস্য। এই ১৫ বছরে কোটায় নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক হিসেবে এই সময়ে নিয়োগ পেয়েছেন ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। যা কোটায় মোট নিয়োগ পাওয়াদের প্রায় অর্ধেক। পরিসংখ্যান ঘেটে দেখা গেছে সহকারী ও প্রধান শিক্ষক পদে প্রতি জেলায় অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ জন কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হাসিনা সরকার পতনের পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই গত ১৫ই আগস্ট সরকারি চাকরিতে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদে এই পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়ে সকল মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। চিঠিতে প্রার্থীর নাম, পিতার নাম, নিয়োগপ্রাপ্ত পদ, শ্রেণি নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ঠিকানা ও সনদ-গেজেট নম্বর চাওয়া হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, পরিদপ্তরসহ মোট ৬১টি প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে এই চিঠি পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চিঠি পেয়ে ওই বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ১০ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সকল মন্ত্রণালয় ও তাদের আওতাধীন দপ্তরগুলো থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য ডাকযোগে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এই সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৮৬ জন। সূত্র বলেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো ওই তালিকা পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই চলছে। ইতিমধ্যে এক-তৃতীয়াংশ যাচাই-বাছাই কাজ শেষ করেছে মন্ত্রণালয়। যাচাই করা তথ্যে দেখা গেছে, কোটায় নিয়োগ পাওয়াদের ৬০ শতাংশই মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি।

কোন মন্ত্রণালয়ে কতো জন চাকরি পান: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেতু বিভাগ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পান ১২ জন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ২৯ জন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪২৮৬ জন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৫৬ জন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে ৭৯ জন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০৯ জন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ১০ জন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪৫ জন, লেজিসেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ৯ জন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২৭ জন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ২২১ জন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৬৮১ জন,  স্থানীয় সরকার বিভাগ ১১৯১ জন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪৮৯ জন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৮ জন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৮১০ জন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ ২৬৮ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৪ জন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ২২৫ জন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৮১১ জন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩২৮ জন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯,৪৮৫ জন, বাংলাদেশ পুলিশ ২৩,০৬৩ জন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ৫৬ জন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৪৮৩৫ জন, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ৯৯৭ জন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৩০৩ জন, পরিবেশ-বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৫৭ জন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৬৮ জন, অর্থ বিভাগ থেকে ১৮৯ জন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ২৮৩০ জন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৩৭ জন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৮ জন, খাদ্য মন্ত্রণালয় ১২৫২ জন, শিল্প মন্ত্রণালয় ৫৪২ জন, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২১০১ জন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ ১৭৩২ জন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৭ জন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ১২ জন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ১০১ জন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ১৩ জন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ১৩২ জন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ১ জন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০৬ জন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ১৮১ জন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২ জন, সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয় ৭৪০৭ জন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১৩২ জন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৭১ জন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৩০ জন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১১৫ জন, বিদ্যুৎ বিভাগ ৩৬৬ জন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদাশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ১০০ জন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬১৭ জন, কৃষি মন্ত্রণালয় ১৮৫২ জন, দুর্নীতি দমন কমিশন ৫১ জন, ভূমি মন্ত্রণালয় ৭৬ জন ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে ১৬ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পান। কোটায় চাকরি পাওয়াদের অধিকাংশই ২০১০ সাল থেকে ২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাকরি পেয়েছেন। 

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেয়াদের একটি অংশ ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে সেই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই শেষে এর তথ্য পাওয়া যাবে।

পাঠকের মতামত

নাতি নাতনীদের চাকরি দেওয়ার সুযোগ নেই। অনিয়ম যারা করেছে তাদের কঠোর বিচার করা আবশ্যক। এ দেশ সকলের। কারো বাবার নয়।

হেলাল
২৯ মার্চ ২০২৫, শনিবার, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

সবার সনদ যাচাই করা হোক। ভূয়া সনদে যারা চাকরি পেয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।

Aktaruzzaman Bhuiya
২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার, ৩:০৫ অপরাহ্ন

ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে যারা চাকরি পেয়েছেন তাদেরকে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হোক। এখন থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। যে সকল পরিবার চাকরি পেয়েছে এদের ভাতা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা স্বামী-স্ত্রী মারা গেলে সন্তান ভাতা পেতে পারে না।

এনামুল হক
২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার, ২:০৭ অপরাহ্ন

যারা ভূয়া সনদে চাকরি পেয়েছেন তাদেরকে দ্রুত চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মেহেদী হাসান
২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

Md. Fazlul Hoque Kha
২৬ মার্চ ২০২৫, বুধবার, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

এদের সবার সনদ যাচাই করা হোক। ভূয়া সনদে যারা চাকরি পেয়েছে তাদেরকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

ওয়াহিদ
২৪ মার্চ ২০২৫, সোমবার, ৭:১৭ পূর্বাহ্ন

সকল প্রকার কোটা বাতিল করতে হবে।

মো: ওয়াহিদুজ্জামান
২৪ মার্চ ২০২৫, সোমবার, ৪:০১ পূর্বাহ্ন

বিগত সরকারের এত বড় প্রতারনা জাতীর জন্য খুবই লজ্জাজনক এমন কি তারা তাদের দলের অনেক সমর্থক কে ও ধোকা দিয়েছে কেননা অনেক আওয়ামি লীগের সমর্থক আজ কাল বলেন যে আমরা তো বুজতেই পারিনাই সরকার আমাদের কে এত মিথ্যা উন্নয়নের ও দেশ প্রেমের গল্প শুনাইতো, যাহা ছিল জাতীর সাথে বড় বেইমান।

তওফিক আহমদ চৌধুরী
২৪ মার্চ ২০২৫, সোমবার, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

এই কোটার জন্য একাধিক বার ভাইবা দিয়েও চাকুরী পাই নাই, সকল ধরনের কোটা বিলোপ করতে হবে।

মোঃ আসাদুজ্জামান
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ৮:৪১ অপরাহ্ন

মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এর পর পরবর্তি জেনারেশন এর সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত। এদের আয় মুক্তিযোদ্ধাদের কোন উপকারে আসবে না। এমন কি মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই এখন হয়ত বেঁচেই নেই। সন্তান কে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ভরন পোষণ সহজ করার জন্য । তারপর সরকার ভাতা চালুর পর এর প্রয়োজন ও শেষ।

Kazi
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ১:৪১ অপরাহ্ন

প্রকৃত মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্য একটি বড় সুযোগ দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে সত্যিকারের পরীক্ষার মাধ্যমে, যোগ্যতার ভিত্তিতে তরুণ তরুণীদেরকে এসব পদে পদায়ন না করলে সেটা হবে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা

বড়লাট
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

অপদার্থ কোটায় ২৩০০০ নিয়োগ!

ইতরস্য ইতর
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

অবিলম্বে সব নিয়োগ বাতিল করতে হবে। এগুলো হাসিনার বানানো মুক্তি যোদ্ধা।

সোহাগ
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ৯:২৪ পূর্বাহ্ন

মেধা না কোটা?

জনতার আদালত
২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ন

প্রথম পাতা থেকে আরও পড়ুন

প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status