বিশ্বজমিন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধপ্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যে বি-২ যুদ্ধবিমান, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
মানবজমিন ডেস্ক
(১ দিন আগে) ২ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার, ৯:৫১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সময় এই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়ে যেতে পারে ভয়াবহ যুদ্ধ। এজন্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মঙ্গলবার পেন্টাগন থেকে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটি হেগসেথ এসব যুদ্ধজাহাজকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বোমা হামলার কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময়ের মধ্যে এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে এটা খুবই খারাপ ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে কোন ধরনের যুদ্ধবিমান এতে মোতায়েন করা হচ্ছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত সপ্তাহে মোতায়েন করা হয়েছে ৬টি বি-২ বোমারু বিমান অথবা দিয়েগো গারসিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র-বৃটেন সামরিক ঘাঁটিতে তা স্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কারের জবাবে ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বি-২ যুদ্ধবিমানের আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এটা এমনভাবে তৈরি যে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা ও পারমাণবিক অস্ত্র বিষয়ক হামলা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে এটি। মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালানোর মতো উত্তম অবস্থানে আছে এই বিমান। পেন্টাগনের মুখপাত্র সিন পারনেল বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা বা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থের প্রতি ইরান বা তার প্রক্সিগুলো হুমকি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সুরক্ষার জন্য সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দিয়েগো গারসিয়া’তে কতগুলো বি-২ যুদ্ধবিমান পৌঁছেছে সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড। একইসঙ্গে এগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হবে সে বিষয়েও কিছু বলেনি তারা।
এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্য একটি উত্তপ্ত কড়াইয়ের ওপর বসে আছে। গাজায় অব্যাহতভাবে চলছে গণহত্যা। লেবাননে চলছে ইসরাইলের বর্বর হামলা। তার ওপর ইরান ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে সহসাই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ দেখা যাবে। রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে চুক্তি করতে রাজি না হয় তাহলে তাদের ওপর বোমা হামলা চালানো হবে। তেহরানের বিরুদ্ধে করা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপ। এরই মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের টার্গেটকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে বি-২ বোমারু বিমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি শক্তিসম্পন্ন এই যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ফলে ইয়েমেনে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। উল্লেখ্য, বি-২ বোমারু বিমান সবচেয়ে তীব্র বোমা বহনে সক্ষম। এর পরিমাণ ৩০ হাজার পাউন্ডের জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্ত্রটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আঘাত করতে ব্যবহার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিমান বাহিনীর হাতে আছে মাত্র ২০টি বি-২ বোমারু। ফলে এর ব্যবহার যথেচ্ছ হবে না।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সোমবার বলেছেন, ট্রাম্প যদি তার এই হুমকি অনুযায়ী অগ্রসর হয় তাহলে শক্তিশালী আঘাতের শিকার হবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে পাল্টা হুমকি দিয়েছেন ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডস এরোস্পেস কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ। যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তারা অবস্থান করছেন কাচের তৈরি ঘরের ভিতর। সেখান থেকে ইটপাটকেল ছোড়া উচিত হবে না তাদের। ওদিকে একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এশিয়া থেকে বেশ কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।
পাঠকের মতামত
এবার ইরান ধ্বংস হবে।
যুক্তরাস্ট্র যুদ্ধ যদ্ধ খেলছে মাত্র, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুকি নিতে পারবেনা।
উন্মাদ ট্রাম্প এখন মুসলিম বিশ্বকে অস্তিত্বহীন করতে উদ্যোগ নিয়েছে,যেমন ফিলিস্তিনকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করতে ইসরায়েল হত্যাকান্ড চালিয়েই যাচ্ছে। সমগ্র মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে,যা সময়ের দাবী।।