অনলাইন
ব্যাংকক বৈঠক
সংখ্যালঘু নির্যাতন, সেভেন সিস্টার্সসহ স্পর্শকাতর ইস্যুতে উদ্বেগ জানালো ভারত
কূটনৈতিক রিপোর্টার
(১২ ঘন্টা আগে) ৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার, ৫:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩১ পূর্বাহ্ন

৫ই আগস্ট পরবর্তী সরকার এবং আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে ভারত তার আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করলো। ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার বহুল আকাঙ্ক্ষিত বৈঠকেও সংখ্যালঘুদের নির্যাতন, সেভেন সিস্টার্স, সীমান্তসহ স্পর্শকাতর ইস্যুতে উদ্বেগ জানালো ভারত। আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি এবং হত্যাযজ্ঞের জন্য শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রশ্নে আজও খোলাসা করে কিছু বলেনি নয়াদিল্লি। দায়িত্ব গ্রহণের আট মাসের মাথায় শুক্রবারই মোদির সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় ড. ইউনূসের। কাঙ্ক্ষিত ছিল ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পনের প্রসঙ্গটি আসবে। ড. ইউনূস তা উত্থাপন করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোদির সফরসঙ্গী দিল্লির বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি। তবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ইউনূস-মোদি বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে কী আলোচনা হয়েছে তা খোলাসা করেননি। মিশ্রি স্মরণ করেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আগেই আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে। তাই প্রত্যর্পণ নিয়ে এই মুহূর্তে এরচেয়ে বেশি বলা সমীচীন হবে না। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য শীর্ষ বৈঠক নিয়ে ফেসবুকে একটি সচিত্র পোস্ট করেছে। তাতে বৈঠকের সারবেত্তা তুলে ধরা হয়। বার্তাটি ছিল এমন ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি ‘চরমপন্থার উত্থান চেষ্টা’ রোধের ওপর জোর দেন তিনি। আগামী দিনে বিমসটেকের চেয়ার হিসাবে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরীয় ওই জোটকে এগিয়ে নিতে যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করছে বা করবে তাতে সমর্থন-সহযোগিতা থাকবে ভারতের।’

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনীতে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস, হিন্দুস্তান টাইমসসহ বিভিন্ন মিডিয়া এ নিয়ে রিপোর্ট করেছে। ব্যাংকক বৈঠকের পর দিল্লির বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে মোদির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাছাড়া দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে এমন কথাবার্তা এড়িয়ে চলতে ঢাকার প্রতি পরামর্শ রেখেছেন। বিভিন্ন রিপোর্টে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন স্পর্শকাতর ইস্যু যেমন সেভেন সিস্টার্স এবং সীমান্ত সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সর্বশেষ চীন সফরেও সেভেন সিস্টার্স নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। যা নিয়ে ভারতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে ড. ইউনূস সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই ওই বক্তব্য দিয়েছেন। যার ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চলছে।

বিক্রম মিশ্রি তার ব্রিফিংয়ে বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সময়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের অনুরোধে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে নয়াদিল্লি। যেটির সঙ্গে বাস্তবতার বেশ ফারাক রয়েছে বলে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার রিপোর্টে উঠে এসেছে।
পাঠকের মতামত
বাংলাদেশ এখনো সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারেনি ভারতের কূট কৌশল এর বিরুদ্ধে। ভারতের মিথ্যার বিরুদ্ধে আরও জোরদার ভূমিকা দরকার ছিল। আমাদের নিবার্চনের বিষয় আমরা বুঝবো ওদের এত মাথাব্যথা কেন?
ভারতকে ড. ইউনুস মুসলিম উপর নির্যাতনের উদ্বেগ জানানো উচিত ছিলো।
ভারতে মুসলিম নিধন,মসজিদ-মাজার ধ্বংসের মচ্ছবে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো দরকার ছিলো, অথচ ভারত ভূয়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের ননইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে ছাড়লো।আমাদের ব্যর্থতা এখানেই!!