খেলা
হামজা বললেন ‘আমরা অনেক দূর যেতে চাই’
স্পোর্টস ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২৫, বৃহস্পতিবার
এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে যেকোনো খেলায় বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত হলেই দর্শকদের মধ্যে আমেজটা একটু বেশিই থাকে। এবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বের ম্যাচে সেটা আরও বেশি হওয়ার কারণ হামজা দেওয়ান চৌধুরী। মঙ্গলবার শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ দিয়েই লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক হয়েছে হামজা চৌধুরীর। প্রথম ম্যাচেই নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি। তার সতীর্থরা একের পর এক সুযোগ নষ্ট না করলে তিনি অভিষেকেই পেতে পারতেন জয়ের স্বাদ। ম্যাচ শেষে তিনি বললেনও, বাংলাদেশের জেতা উচিত ছিল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দল লেস্টার সিটি থেকে ধারে এখন শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন হামজা। এমনিতে তার পজিশন ডিফেন্সিভ ফিল্ড। তবে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তাকে মঙ্গলবার সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলিয়েছেন। এই পজিশনে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকলেও এদিন সেটা বুঝতেই দেননি। মূলত রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ ও আক্রমভাগের মধ্যে সমন্বয় করেছেন হামজা। ডিফেন্সের সামনে একাধিকবার নিখুঁত ট্যাকলে আটকে দিয়েছেন ভারতের সব আক্রমণ। ভারতের সবচেয়ে বড় তারকা সুনীল ছেত্রীকে হামজাই বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন। ২৬তম মিনিটে যেমন বাঁ প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠেছিলেন ভারতের শুভাশীষ বোস। দৌড়ে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে বল কাড়েন হামজা।
এদিন প্রথমার্ধেই ৩টি গোলের সুযোগ তৈরি করেন হামজা। সতীর্থদের ব্যর্থতায় একটিও কাজে লাগেনি। ৪০তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বল কিংবা উড়ে আসা ক্রসে ছেত্রী নাগাল পাওয়ার আগেই বাধা হয়ে দাঁড়ান হামজা। ৪৭তম মিনিটে বাঁ উইং ধরে আক্রমণে ওঠা ভারতের লিস্টন কোলাচোকেও আটকান হামজা। দৌড়ে এসে কোলাচোকে ট্যাকল করে ফেলে দেন হামজা। খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, হলুদ কার্ড দেখতে পারেন। কিন্তু ট্যাকলটি নিখুঁত হওয়ায় লেবাননের রেফারি হুসেইন এহিয়া বাঁশি বাজাননি। ৫৮তম মিনিটে কর্নার থেকে বাংলাদেশের বক্সে বল পান ছেত্রী, লাফিয়ে আগেই বল ক্লিয়ার করেন হামজা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৪ মিনিট আগে বাংলাদেশের বক্স থেকে দুবার বল ‘ক্লিয়ার’ করেন হামজা। যোগ করা সময়েও বাংলাদেশকে দুবার বিপদের হাত থেকে বাঁচান তিনি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ, এক হামজাই যেন ভারতের আক্রমণভাগের জন্য চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে অবশ্য জয় না পাওয়ার আক্ষেপ শোনা যায় হামজার কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু মিস করেছি। ফুটবলে মিস হতেই পারে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগেও মিস হয়। ফলে এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। এটা আমাদের জন্য খারাপ দিন ছিল। তবে আমাদের জেতা উচিত ছিল।’
জাতীয় সংগীত যখন বাজে, সেই সময়ের অনূভুতি হামজার মুখে একটু অন্য রকমই শোনাল। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে হামজা বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরেছি, এতে আমি গর্বিত। তবে এক ড্রতেই শেষ নয়। আমরা অনেক দূর যেতে চাই।’
আর কোচ হাভিয়ের কাবরেরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অ্যাওয়ে ম্যাচে এক পয়েন্ট পেয়েছি। প্রথমার্ধে অনেক সুযোগ পেয়েও মিস করেছি। আমাদের জেতা উচিত ছিল। যাই হোক, আমরা এশিয়া কাপে খেলার আশা রাখি। আজকের পর সেটা সম্ভব মনে হচ্ছে।’ হামজাকে নিয়েও তিনি খুশি, ‘সে ভালো খেলেছে। যে পর্যায় থেকে সে এসেছে, সেই মান অনুযায়ীই খেলেছে। অন্যরা তাকে সহায়তা করেছে।’
বাংলাদেশের গ্রুপের অন্য ম্যাচে কাল সিঙ্গাপুর-হংকং গোলশূন্য ড্র করেছে। এখন চার দলেরই পয়েন্ট এক করে। গ্রুপ সেরা দল যাবে ২০২৭ সালে সৌদি আরবে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার।
বাংলাদেশ দল ভারতকে তেমন সুযোগই দেয়নি। এটাই এ ম্যাচ থেকে বড় প্রাপ্তি। গোল নষ্ট করার যে আক্ষেপ সেটিও আসলে একঅর্থে জয়ের অনুভূতিই দিচ্ছে দলকে। ম্যাচ থেকে ভারতকে ছিটকে দেওয়া যেত প্রথমার্ধেই।