ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

শেষের পাতা

ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানির উদ্যোগ

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবারmzamin

ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিইআরসি। এর আগে জেট ফুয়েলের (উড়োজাহাজের জ্বালানি) তেলের গণশুশানিও হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রস্তাবের আবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কর্মকর্তারা ইঙ্গিত করে বলেন, ফার্নেস অয়েলের দামে শুনানি হলে আগের চেয়ে কমতে পারে দাম। এতে বিদ্যুতের দামও কমতে পারে। দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র সবচেয়ে বড় গ্রাহক এই জ্বালানি।
সূত্র মতে, বিপিসি’র প্রস্তাব পাওয়ার পর বিপণন কোম্পানিগুলোকে (পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি) প্রস্তাব দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। 

বিইআরসি’র সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান এই বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব বিইআরসিতে এসেছে। এরপর বিইআরসি জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের জন্য গণশুনানি করেছে। এখন আমরা ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে গণশুনানি করবো। তিনি বলেন, ৬ই এপ্রিল অফিস খোলার পর ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের জন্য গণশুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। শিগগিরই এই তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ২৩শে মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করেছে বিইআরসি। এতদিন বিপিসি নির্ধারণ করে আসছিল এই পণ্যটির দাম। একইভাবে ফার্নেস অয়েলের দামও নির্ধারণ করতো বিপিসি। জানা গেছে, বিপিসি গত ২০শে জানুয়ারি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠানো হয়েছে। চাহিদার দিক থেকে ডিজেলের পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার। বিদ্যুৎকেন্দ্র সবচেয়ে বড় গ্রাহক এই জ্বালানির। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রয় হয়েছে। এরমধ্যে ইআরএল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, অবশিষ্ট ৬৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। ২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিইআরসি গঠিত হয়। আইনে সব ধরনের জ্বালানির দাম নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া হলেও প্রবিধানমালা ঝুলে থাকায় শুধুমাত্র গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল বিইআরসি। বিগত সরকার ২০২৩ সালে আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় করার বিধান যুক্ত করে। ফলে এরপর থেকেই সংস্থাটি দন্তহীন হয়ে পড়ে। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করে দিয়েছে। এরপর ১৫ই সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসি’র ওপর ন্যস্ত করা হয়। তবে আগের মতোই এখনো নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। যে প্রবিধানমালার দোহাই দিয়ে এতদিন নির্বাহী আদেশে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। সেগুলো এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ঝুলে থাকা প্রবিধানমালা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথমদিকে নাড়াচাড়া শুরু হলেও এখন আবার অন্ধকারে চলে গেছে। 

কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রবিধানমালা ঝুলিয়ে রাখবে এটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর। আগের সরকারের মতোই আমলাদের কাছে নতিস্বীকার করেছে এই সরকারও। এখানে বিইআরসি’রও ব্যর্থতা রয়েছে। প্রবিধান না থাকার পর যদি এলপিজি, জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করতে পারে। তাহলে অন্যগুলো নয় কেন- প্রশ্ন এই বিশেষজ্ঞের। মনে হয় আবার কোর্টেই যেতে হবে। যেভাবে কোর্টের মাধ্যমে এলপিজি’র দর নির্ধারণে বিইআরসিকে বাধ্য করা হয়েছে। তারা কোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্যাব। তিনি বলেন, নির্বাহী আদেশে যা খুশি তাই দাম নির্ধারণ করা যায়। বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা তারাই আবার দাম নির্ধারণ করে। এতে জবাবদিহিতা থাকে না, ভোক্তাদের অংশগ্রহণ থাকে না। বিইআরসিতে এলে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি সামনে চলে আসে। এতে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হয়।

 

শেষের পাতা থেকে আরও পড়ুন

শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status