বাংলারজমিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের ছুটিতে ৪১টি নরমাল ডেলিভারি
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবারঈদের ৯ দিনের ছুটিতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা ছিল বিরামহীন। ২৪ ঘণ্টা ছিল সেবার দরজা খোলা। এই সময়ে পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের এ কেন্দ্রটিতে নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ২১ প্রসূতি। কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহনাজ পারভীন জানান, ঈদের সারাদিন এখানেই ছিলাম। দুটো ডেলিভারি হয়েছে। ডেলিভারিতেই ছিল আমাদের ঈদ আনন্দ। ডাক্তার, ভিজিটর, অ্যাটেনডেন্ট নার্স সবাই ডিউটিতেই ছিলেন। ঈদের দিন বিকালে নবীনগর থেকে আসা হালিমা (২২) নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পুত্রসন্তান প্রসব করেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। এদিনেও তাৎক্ষণিক প্রসব সেবা পেয়ে অনেক খুশি হয় হালিমার পরিবার। তার স্বামী একটি ট্রাভেল গ্রুপের পরিচালক জনি রানা বলেন, ঈদের দিন আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে তাকে জেলা সদরে নিয়ে আসি এবং খুব টেনশনে ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ম্যাটারনিটিতে এসে নরমাল ডেলিভারি সেবা পেয়ে অভিভূত হই।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ঈদের ছুটিতে শুক্রবার পর্যন্ত ২১ জনের ডেলিভারি হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আরও ২০টি ডেলিভারি হয়েছে। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক ডাক্তার শিরিন সুলতানা বলেন, ছুটি আমাদের কপালে নেই। ডাক্তার, ভিজিটর,অ্যাটেনডেন্ট নার্স সবাই ডিউটিতেই সময় পার করেছি। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে ঈদের ছুটিতেও। আমাদের একজন ভিজিটর নাইট ডিউটি করে আবার সকালে ডিউটি করছে, আবার জরুরি সেবা হিসেবে মানবিক কারণে একই ভিজিটর বিকালেও ডিউটি করছে। এক ঘণ্টার জন্যও আমাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়নি ঈদের এই লম্বা ছুটিতে। এখান থেকে সেবাপ্রত্যাশীরা নিয়মিত গর্ভকালীন সেবা, প্রসব সেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা, প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও নবজাতকের সেবা পাচ্ছে।