বাংলারজমিন
সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু
আঃ মালেক রেজা, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে
৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার
পূর্ব-সুন্দরবনসহ গোটা সুন্দরবনে শুরু হয়েছে মধু আহরণ মৌসুম। প্রতি বছর ১লা এপ্রিল থেকে মধু আহরণ শুরু হলেও এ বছর ঈদুল ফিতরের কারণে তা দুইদিন পিছিয়ে ৩রা এপ্রিল থেকে পাস (অনুমতি) দেয়া শুরু করেছে বনবিভাগ। তবে, এ মৌসুমে সুন্দরবনে যাওয়ার আগ্রহ অনেকটা কম মৌয়ালদের। দস্যুদের হাতে অপহরণের ভয় বিরাজ করে তাদের মধ্যে। আবার দস্যুদের ভয়ে লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না মধু ব্যবসায়ীরাও। ফলে এ বছর মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা অনেকটা কম। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ১৮টি নৌকায় পাস নিয়েছে। যেখানে গত বছর প্রথম দিনে করা হয়েছিল ৩৩টি নৌকায়। পাসের সংখ্যা আশানুরূপ না হলে মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বনবিভাগ। তবে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত আরও ৪-৫টি পাস হয়েছে বলে জানা গেছে। মৌয়ালরা জানান, মধু আহরণে বাড়তি খরচ ও এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় মধুর পরিমাণ কেমন হয় তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়ায় মধু আহরণে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, হঠাৎ করে ৪-৫ মাস ধরে সুন্দরবনে কচিখালী কটকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকজন জেলে অপহরণ করার পর বনজীবীদের সুন্দরবনের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। কিছু মিডিয়াকর্মী অতি উৎসাহিত সংবাদ প্রকাশ করায় জেলে এবং মোবাইলদের পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যার কারণে এ বছর মোবাইলরা সুন্দরবনে দস্যুদের ভয়ে পাশ পারমিট কমিয়ে দিয়েছে বলে অনেক মৌয়াল জানিয়েছে।
গত ৩০ বছর ধরে মধু আহরণকারী সাউথখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস হাওলাদার, ইউসুফ কবিরাজ, আব্দুল খালেক হাওলাদার, মনিরুজ্জামান ও সোবহান মিয়া বলেন, মধু সংগ্রহ করার আগেই যদি বনদস্যুদের চাঁদা দিতে হয় তবে মধু সংগ্রহ করার ইচ্ছা আর মৌয়ালদের থাকে না। ২০১৮ সালের পর থেকে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে আবারো সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের ভয়ে সুন্দরবনে মৌয়াল ও জেলেরা আতঙ্কে রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সমাজসেবক বলেন, জুলাই পরবর্তী আন্দোলনের পর কিছু সন্ত্রাসী জেল থেকে বের হয়ে সুন্দরবনে আত্মগোপন করে দস্যুর পথ বেছে নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করেন এমন এক মৌয়াল বলেন, দুইটি সমস্যা নিয়ে সুন্দরবনে দীর্ঘদিন মধু সংগ্রহ করে আসছেন তারা। একটি হলো- দস্যুদের যন্ত্রণা, অন্যটি হলো- বনবিভাগের অসাধু বনরক্ষী ও মোবাইল টিমে যুক্ত থাকা বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মৌয়ালদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১ কেজি বা কখনো কখনো আধা কেজি করে মধু জোর করে নিয়ে নিচ্ছে। যা তাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) রানা দেব জানান, দীর্ঘদিন দস্যুমুক্ত থাকা সুন্দরবন হঠাৎ করে বনদস্যু দ্বারা জেলে ও মৌয়ালদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মৌয়ালদের দস্যু আক্রমণ করলে পাশাপাশি স্টেশনগুলোকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া, বনরক্ষীদের মৌয়ালদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।