খেলা
বাফুফের মতো প্রবাসীদের খোঁজে সাঁতার ফেডারেশন
স্পোর্টস রিপোর্টার
৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার
শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে লাল সবুজের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে খেলা হামজা চৌধুরীর। তার দেখানো পথেই হাঁটতে চাইছে অনেক প্রবাসী ফুটবলাররা। এরই মধ্যে অনেকে নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আগামী জুনে প্রবাসী ফুটবলারদের ‘হাঁট’ বসতে যাচ্ছে ঢাকায়। ত্রিশের অধিক ফুটবলার আসছেন ট্রায়াল দিতে। এবার ফুটবলের দেখানো পথেই হাটতে চাইছে বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশন। সাঁতার ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিও চাইছে প্রবাসী সাঁতারুদের দেশের পুলে আনতে। অতীতে লন্ডন প্রবাসী সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে তার ক্যারিয়ার বেশি লম্বা হয়নি। টোকিও অলিম্পিকের পর পুল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি।
হামজা চৌধুরীর অভিষেকের পর একটি ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত- প্রবাসী অ্যাথলেটদের ফিজিক্যাল ফিটনেস বিশ্বমানের হয়ে থাকে। সেই তুলনায় স্থানীয়রা অনেকটাই পিছিয়ে। এই উপলব্ধি থেকেই সাঁতারেও এখন চলছে প্রবাসীদের খোঁজ। বিষয়টি স্বীকার করে সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি আসে, আমাদের লেভেলটা আরও ওপরে নিয়ে যায়, সেটার জন্য আমি সব সময় উদ্বুদ্ধ করি। আমরা চেষ্টা করছি, কোথাও প্রবাসী সাঁতারু পাওয়া যায় কিনা। পর্যবেক্ষণ করছি। ফুটবলে যেমন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়ার মতো প্রবাসীরা এসেছেন, তেমন যদি সাঁতারে আসেন, আমরা মনে করি দেশের সাঁতারের জন্য ভালো হবে।’ যদিও এই মুহূর্তে তেমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না জানিয়ে সাঁতার ফেডারেশনের সদস্য ও এসএস গেমসে পদক জয়ী সাবেক জাতীয় সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, সেভাবে প্রবাসী সাঁতারু পাওয়া যাচ্ছে না। একজন অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী বাঙালি পেয়েছিলাম, সেও কিছুদিন পর সাঁতার ছেড়ে দিয়েছে। এখন পাওয়াটা কঠিন। তার পরও সন্ধান চলছে।’ অতীতে লন্ডন প্রবাসী জুনাইনা আহমেদ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৭ সালে দেশের বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশগ্রহণ করে নজর কেড়েছিলেন জুনাইনা। ২০১৯ সালে জাতীয় সাঁতারে আট রেকর্ড গড়ে ৯টি স্বর্ণ জেতেন। দেশীয় সাঁতারে রীতিমতো ঝড় তুলে দেন তিনি। এরপর বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপেও প্রত্যাশা পূরণ করেন। কিন্তু টোকিও অলিম্পিকে সেই মান ধরে রাখতে পারেননি। সেটাই ছিল দেশের হয়ে তার শেষবারের মতো পুলে নামা। বছর তিনেক আগে দন্ত চিকিৎসক জুনাইনা পড়ালেখার চাপের কথা বলে পুল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপর আর সেভাবে আলোচনায় আসেনি প্রবাসী সাঁতারুর আলোচনা। জুনাইনার বাবা জুবায়ের আহমেদ মাঝে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তার ছোট মেয়ে জামাইমার অংশগ্রহণ নিয়ে। কিন্তু কোনো অ্যামেচার সাঁতারু নয়, ফেডারেশন আগ্রহী পেশাদার সাঁতারু অন্তর্ভুক্তিতে। ফুটবলে যেমন এই মুহূর্তে ১৩ দেশের ৩২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার লাল-সবুজের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২৫ জুন ঢাকায় তাদেরকে নিয়ে ট্রায়াল করার চিন্তাভাবনা করছে ফুটবল ফেডারেশন। তারাও চাইছে যে কেউ এলেই আর দলে জায়গা মিলবে না, যদি কোনো প্রবাসী বিদেশি লীগে ভালো কোনো দল বা লীগে খেলে থাকেন, তাদেরকেই বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি কাউকে কাউকে বয়সভিত্তিক দলের জন্যও বিবেচনা করা হবে। সাঁতারেও তেমন মানের কাউকেই চাইছেন মাহফিজুর রহমান সাগর। জুনাইনার খোঁজও তিনিই এনেছিলেন। সাগর নিজে বিদেশে ট্রেনিং করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক আসরে। প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয়দের তফাতটা তিনি ভালোই জানেন। তিনি বলেন,‘বিদেশি পেশাদার সাঁতারুদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয়দের পার্থক্য এ টু জেড। ওরা পুরো সায়েন্স নিয়ে থাকে। ওদের কোচ, নিউট্রিশন, অনুশীলন, অনুশীলনের পরিবেশ, ট্রেনিং প্রোগ্রাম সব উচ্চ পর্যায়ের। আমরা তেমন কাউকেই চাচ্ছি।’