বাংলারজমিন
বাজিতপুরে পৃথক সংঘর্ষে আহত শতাধিক, ভাঙচুর-আগুন, আটক ১৪
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবারকিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে পৃথক সংঘর্ষে আহত শতাধিক, ভাঙচুর লুটতরাজ ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, গত ২৯শে মার্চ শনিবার রাতে বাজিতপুর পৌরসভার মথুরাপুর, পৈলোনপুর দরিঘাগটিয়াসহ ৭/৮টি গ্রামের দুষ্কৃতকারী একদল সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাজিতপুর শহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এই সময় দুষ্কৃতকারীরা বাজিতপুর বাজারে কৈলাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৮০টিরও বেশি দোকানপাটে ভাঙচুর, লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে। লুটপাট করে প্রায় ৬০/৭০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল। পুড়িয়ে দেয় ৬/৭টি দোকানপাট। সেই সঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়া কৈলাগ ইউপি’র সমস্ত গ্রামের যাকে পেয়েছে তাকেই দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে প্রায় ৮০ জনকে আহত করে। খবর পেয়ে বাজিতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু অবস্থা বেগতিক হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারশিদ বিন এনাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তলব করে সেনাবাহিনী। পরে যৌথ বাহিনীর কঠোর ভূমিকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হোন। আঞ্চলিকতার প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যেই উক্ত সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। এই বিষয়ে উভয় এলাকার নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইউএনও ঘটনা যাতে আঞ্চলিকতায় রূপ না নেয়, এবং মীমাংসার লক্ষ্যে বৈঠক করেছেন।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাজিতপুর এক আতঙ্কের নগরীতে পরিণত। এই বিষয়ে কৈলাগ গ্রামের মো. মঈনউদ্দীন বাদী হয়ে ১২৬ জনের নাম উল্লেখ ও ১৫/২০কে অজ্ঞাত রেখে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। এই বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোরাদ হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সারা বাজিতপুরে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
এদিকে গত ২রা এপ্রিল বিকালে রাহেলা ও রাহেলা সরকার বাড়ির মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হন। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বলিয়ারদিতে মারাত্মক সংঘর্ষে প্রায় ১৫ জন আহত হন।