খেলা
চার দেশীয় বক্সিং প্রতিযোগিতা হবে ঢাকায়
স্পোর্টস রিপোর্টার
৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবারনেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বক্সিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন। গতকাল মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে দায়িত্ব নিতে এসে এই ইচ্ছার কথা জানান নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) এমএ লতিফ খান। এ সময় সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান এবং দুই সহ-সভাপতি ফাইজুর রহমান ভূঁইয়া ও মো. ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম সভায় বসেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান সভাপতি। ১৯৬৮ সালে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম বাঙালি হিসাবে ব্রোঞ্জজয়ী সাবেক এই বক্সার বলেন, ‘আমি বক্সারের পা দেখেই বলে দিতে পারতাম প্রতিপক্ষ বাঁম না ডান হাতে বেশি শক্তিশালী। মোহাম্মদ আলী ও জো ফ্রেজিয়ারের খেলা দেখে অনুকরণও করতাম। আসলে একজন বক্সারের কঠোর শৃংখলা, পরিশ্রম ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তাছাড়া আমি বিশ্বের বৃহৎ তিনটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান আমেরিকার ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানির লাইপজিক স্পোর্টস বিশ্ববিদ্যালয়, এবং ভারতের পাতিয়ালার স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করেছি। সেই অভিজ্ঞতায় বলছি, তিন মাস সময় পেলে বক্সিংকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারব। প্রয়োজনে আমি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেও যাব।’ ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী বক্সার জুয়েল আহমেদ জনি, ২০১৯ নেপাল এসএ গেমসে রুপাজয়ী মো. রবিন মিয়া এবং দেশের অন্যতম সেরা বক্সার সুরকৃষ্ণ চাকমার মতো ক্রীড়াবিদরা এখন পেশাদার রিংয়ে লড়েন। অ্যামেচারে কেন থাকছেন না বক্সাররা? এমন প্রশ্নের উত্তরে সভাপতি বলেন, ‘অ্যামেচার বক্সিংয়ে অর্থ দেওয়া যায় না। তাই তারা থাকে না। তবে বক্সারদের ধরে রাখার জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় বক্সারদের কোচ হিসাবে কাজ করাতে হবে।’ সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান বলেন, ‘এখন আমাদের কাছে সবকিছুই চালেঞ্জের। যদিও আমাদের খেলোয়াড় তৈরি আছে। এই মাসেই জুনিয়র বক্সিং এবং ঈদুল আযহার আগে সিনিয়র বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করবো আমরা। সব পরিকল্পনা হয়ে গেছে। অনুশীলনের কিছু কমতি রয়েছে। দুই তিন মাস অনুশীলনের পর এখান থেকে এসএ গেমসের জন্য কিছু বক্সার বেড়িয়ে আসবে। তাদেরকেই দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলন দেওয়া হবে।’ অ্যাডহক কমিটি কি দীর্ঘ মেয়াদী সময় পাবে? এ বিষয়ে কুদ্দুস খান বলেন, ‘অ্যাডহক কমিটি হলেও সমস্যা নেই। কাল নির্বাচন দিলেও আমরা চলে যাবো নির্বাচনে। তার আগে একটি কাঠামো তৈরি করতে চাই। কারণ, বক্সিং দিনকে দিন এগিয়ে যাচ্ছে।’
সহসভাপতি ফাইজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বক্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা দিতে এসেছি, নিতে নয়। অ্যাডহক কমিটিতে থেকে আমাদের সাধ্যমতো সব কাজ করে যেতে চাই।’