বাংলারজমিন
চায়ের দেশে পর্যটকদের ঢল
ইমাদ উদ দীন, মৌলভীবাজার থেকে
৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার
প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের অর্ধশতাধিক স্পটে ঢল নামে পর্যটকদের। দীর্ঘদিন পর এবারের ঈদে লম্বা ছুটি আর অনুকূল পরিবেশ থাকায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল জেলার প্রতিটি পর্যটন স্পটে। এ বছর জেলার মনোমুগ্ধকর দৃষ্টিনন্দন নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে যেমন দর্শনার্থীরা আনন্দ পেয়েছেন। তেমনি প্রাণ ফিরেছে দীর্ঘদিন থেকে মন্দাকাটানো এশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসন পর্যটকদের নির্বিঘ্নে পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে বেড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জোরদার রেখেছেন। এজন্য এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। জেলার ২টি পাঁচ তারাকা হোটেল (দুসাই ও গ্র্যান্ড সুলতান) ছাড়াও শতাধিক হোটেল ও রিসোর্টের ব্যবসায়ীরা জানান- এ বছর ঈদের ৯ দিনের লম্বা ছুটি থাকায় অনেকেই স্ব্পরিবারে বেড়াতে এসেছেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই তাদের হোটেল ও রিসোর্টগুলোর বুকিং কমপ্লিট হয়ে যায়। তারা জানান- বেশির ভাগ পর্যটকই দেশি ও প্রবাসী।
এ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকায় দে িপর্যটকরা সপরিবারের ঈদের আগের দিন থেকে এখানে ঘুরতে এসেছেন। আরও দু’-তিনদিন পর্যটকদের পদচারণা মুখর থাকবে বলে জানান তারা। তাদের মতো একই কথা জানালেন এজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঘুরতে আসা প্রকৃত প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা। তারা বললেন- গেল কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতা এবং চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকায় তারা বিদেশে না গিয়ে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে ঈদের আগের দিন থেকে এখানে ছুটে এসেছেন। এখানকার মনখোলা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে তারা উৎফুল্ল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন গেল ক’দিন থেকে পর্যটকদের আনাগোনায় সরগরম দৃশ্য চোখে পড়ছে জেলার ৯২টি চা-বাগান, পানপুঞ্জি, সাদা সোনা খ্যাত অর্ধশতাধিক রাবার বাগান, দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি হাওর, হাওর তীরের পাখি বাড়ি, পাখি ও মৎস্য অভয়াশ্রম বাইক্কা বিল, কমলগঞ্জের বৃষ্টি বন খ্যাত জাতীয় উদ্যান লাউয়াছড়া, দৃষ্টিনন্দন সর্পিল মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লী, শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি একাত্তর, বিটিআরআই চা গবেষণা কেন্দ্র, লেবু ও আনারসের বাগান, সীতেশ বাবুর মিনি চিড়িয়া খানা, কুলাউড়ার নবাববাড়ী, গাজীপুর চা বাগানের দুরবিন টিলা, শিববাড়ী মন্দির, বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আগর-আতরের বাগান ও কারখানা, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগরের কমলা রানীর দীঘি, কাউয়াদিঘির হাওর, সদর উপজেলার ঐতিহাসিক খোঁজার মসজিদ। এছাড়াও ছোট- বড় নানা দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পদচারণায় ছিল মুখরিত। এসব স্থানে নিজেদের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে মুঠোফোনে ছবি আর ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন পর্যটকরা। সঙ্গে টিকটক, ব্লগার ও ইউটিবারদের উৎপাতও ছিল লক্ষণীয়। দর্শনার্থীরা জানান- এ জেলার উঁচু-নিচু পাহাড়, নদী ও হাওর আর সবুজ প্রকৃতি তাদেরকে প্রশান্তি দিয়েছে ভ্রমণের। জেলা পুলিশ জানিয়েছে পুরো জেলাব্যাপী তাদের পর্যটন পুলিশের টিম কাজ করছে। এছাড়া তাদের সহায়তার রয়েছে জেলা পুলিশের সদস্যরাও।