ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৫ শাওয়াল ১৪৪৬ হিঃ

দেশ বিদেশ

লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগ

সেল কাউন্টারের অভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষায় রোগীদের চরম ভোগান্তি

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা) থেকে
৫ এপ্রিল ২০২৫, শনিবারmzamin

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে কেবলমাত্র একটি সেল কাউন্টারের অভাবে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা। এই আধুনিক যুগেও এনালগ পদ্ধতিতে রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এই প্যাথলজি বিভাগটিতে। প্যাথলজি বিভাগে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দ্বারা চোখে দেখে রক্ত কণিকা নির্ণয় করা হয়; যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। যার ফলে বর্তমানে কেবল ৭ থেকে ৮জন রোগীই দৈনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগ থেকে কম মূল্যে সেবা নেয়ার সুযোগ পান। আর সেখানে সেবা নিতে গিয়ে ফিরে যাওয়া রোগীরা বাহিরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। যদিও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমানে প্যাথলজি বিভাগে অন্তত ২০টি সেবা চলমান রয়েছে। এই সেবা থেকে গড়ে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকার মতো রাজস্ব আদায় হচ্ছে। তবে আধুনিক এই সময়েও প্যাথলজি বিভাগটিতে এনালগ পদ্ধতিতে কার্যক্রম চলায় কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষা করাতে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরতরা। আবার এই বিভাগটিতে পর্যাপ্ত লোকবলেরও সংকট। এখানে তিনজন টেকনোলজিস্টের পদ থাকলেও আছেন কেবল একজন। আর ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্টের পদটি সম্পূর্ণ শূন্য। গত ক’দিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসকের কাছ থেকে সেবা নেয়ার পর কয়েকজন রোগীকে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হয়। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ কম হওয়ায় সেখানে ভিড় করছেন রোগীরা। তবে রক্ত সংগ্রহ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্বে কেবল একজন থাকায় তিনি এত রোগীকে সেবা দিতে পারছেন না। বাকি সেবাপ্রত্যাশীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফিরে বাহিরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে কয়েকগুণ বেশি টাকা গুনতে হয় ওইসব রোগীদের। তবে ১টার পর অনেক সময় বহির্বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা চলে যাওয়ায় ওইদিন তা আর দেখাতে পারছেন না রোগীরা। 
ভুক্তভোগী আসমা বেগম ও সাইফুল ইসলাম জানান, শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ডাক্তার কিছু টেস্ট দিয়ে বলেছেন হাসপাতালের ২৪ নম্বর রুমে (প্যাথলজি বিভাগ) গিয়ে এসব টেস্ট করাতে। সেখানে নাকি কম মূল্যে এসব টেস্ট করানো যাবে। তাই ওই রুমে গিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে রক্ত দিয়েছি। রিপোর্ট পেয়েছি দুপুর ১টার দিকে। এরপর যেই ডাক্তারকে দেখিয়েছি সেখানে গিয়ে উনাকে আর পাচ্ছি না। পরে হাসপাতালেরই কয়েকজন স্টাফ জানান ডাক্তার চলে গেছেন, রিপোর্ট পরের দিন আবার গিয়ে দেখাতে হবে। এতে করে সত্যিই চরম দুর্ভোগে পড়েছি।
অপরদিকে, আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসক তার স্ত্রীর রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন, তবে ১২টা বেজে যাওয়ায় হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে তিনি ফিরে যান। কারণ সেখানে টেস্ট করাতে গেলে রিপোর্ট পেয়ে তা নিয়ে ওইদিন আর চিকিৎসককে দেখাতে পারবেন না। এজন্য বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচে বাহিরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তার স্ত্রীকে দেয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো করিয়ে ওই চিকিৎসককে গিয়ে রিপোর্ট দেখান। প্রতিবেদকের কাছে এভাবেই দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়েছেন আব্দুর রহিম। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এখানে একটি সেল কাউন্টার খুবই জরুরি। এটি না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের পুরোপুরি সেবা দিতে পারছি না। এ ছাড়া জনবলও নেই, আমি একাই এ বিভাগের সব সামলাচ্ছি। ফলে ৭-৮ জনের বেশি রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। কোনো ডাক্তার রোগীকে সিবিসি পরীক্ষা করাতে দিলে তা নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়, এনালগ পদ্ধতিতে এই পরীক্ষার রিপোর্ট প্রস্তুত করতে অনেক সময় নষ্ট হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. তৈয়বুর রহমান জানান, প্যাথলজি বিভাগে একটি সেল কাউন্টার সত্যিই খুব প্রয়োজন। এজন্য ইতিমধ্যে কয়েকবারই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আবারো আবেদন করবো। আশা করছি, এই উপজেলার অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে একটি সেল কাউন্টার প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।

দেশ বিদেশ থেকে আরও পড়ুন

আরও খবর

দেশ বিদেশ সর্বাধিক পঠিত

   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2024
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status